সোনাদিয়া প্যারাবন ধংস করে বড় বড় চিংড়ি ঘের নির্মাণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ক্ষমতা অপব্যবহার করে,প্যারাবনের বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার গাছ কর্তন করে প্রভাবশালীরা পরিবেশ’কে বিপর্যয়ে মুখে ঠেলে দিয়ে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের ও লবণ মাঠ তৈরি করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে এখন। এসব প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের জন্য পরিবেশবাদীরা কিছুই নয়। এমনকি তাদের আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদী মুখের ফেনা তাদের কান বরাবর পৌঁছলেও এসব পাগলের প্রলেপ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জুরালো লেখালেখি চলছে। অনেকেই লিখছে সোনাদিয়ার প্যারাবন আমাদের ফুসফুস। আবার কেউ কেউ লিখছে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা এবার বাড়িতে বসেই মোকাবিলা করবো। এই ছাড়া কোনো উপায় নাই। যে বন আমাদের প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করবে সেটি ধংস করে দিচ্ছে, প্রভাবশালীরা। আবার অনেকে লিখছে প্রভাবশালীদের হাত থেকে আমাদের প্যারাবন রক্ষা করুন, ইত্যাদি।
এসব লিখুনি গণমাধ্যমে ও সুশীল সমাজের নজরে আসলে তারাও লিখনির মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ জুড়া দিচ্ছে।এসব লিখনি প্রশাসনের নজরে আসলে, চিংড়ি ঘের নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি), মহেশখালী থানা,আনসার এবং কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন মীকি মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মহেশখালী। এসময় ০২(দুই) জন আসামিকে ৩০০০০০/-(তিন লক্ষ) টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়েছে এবং মাটি কাটায় ব্যবহৃত স্কাভেটর ধ্বংস করা হয়।
এই বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে সংঘটিত প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে সময় বৃহত্তর মহেশখালী উপকূলীয় এলাকায় ২০/২৫ ফুট উচুঁ সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে। এতে হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপশু প্রাণ হারায়।ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সময় জাপানের কিছু পরিবেশ প্রেমিক মহেশখালিতে বনবিভাগের সহয়তায় নদীর ধারে এবং জেগে উঠা চরে লাখ লাখ কেওড়া,গেওয়া ও বাইন গাছের চারা রোপন করে প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালায়।যাতে এসব প্যারাবন সৃষ্টি হওয়ায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো সম্ভব হবে।কিন্তু কিছু লোভী প্রভাবশালী এসব প্যারাবন কেটে রিং বাঁধ দিয়ে প্যারাবন ও চরে জায়গা দখল করে নিচ্ছে।তারমধ্য সর্বোচ্চ প্যারাবন নিধন করা হচ্ছে সোনাদিয়ায়।এসব করে বেড়াচ্ছে মহেশখালী সবচেয়ে বড় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা। তারা পরিবেশ আইন’কে তোয়াক্কা না করে এই সমস্ত অপরাধ মুলক কাজ করে যাচ্ছে।
তবে সোনাদিয়া দ্বীপের পূর্ব পাড়া থেকে পশ্চিম পাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৯৬২ একর জমিতে স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন ২শ ৫০ একর জমির রয়েছে। অবশিষ্ট ২ হাজার ৭১২ একর জমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত সরকারী জমি।আর এই অধিগ্রহণকৃত জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্যারাবনের গাছ উজাড় করে চিংড়িঘের তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদার ।পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ অনুযায়ী এ দ্বীপের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও কোনো ভাবেই তোয়াক্কা না করে, সরকারী সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখল করে করে যাচ্ছে।
অভিযানের বিষয়ে মহেশখালী উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাছবির হোসেন বলেন, প্যারাবন কেটে যারা পরিবেশ ধংস করে যাচ্ছে, তাদের বিরোদ্ধে এমন অভিযান চলমান থাকবে।
মহেশখালী নির্বাহী অফিসার মীকি মারমা অভিযানের বিষয়ে বলেন,দীর্ঘদিন যাবত মহেশখালীর একটি দখলদার চক্র প্যারাবন কেটে পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়ে, অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের নির্মাণ করে আসছে। এটি আমাদের উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসে। সোনাদিয়া প্যারাবন রক্ষা ও অবৈধ দখল ঠেকাতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। যারা দখলদার তাদের বিরোদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং দখল ঠেকাতে মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।
স্থানীয় মহলের অভিমত, এবার প্রশাসন মাঠে নেমেছে।দেখি প্রশাসনের এসব অভিযান তারা (দখলদারা)তোয়াক্কা করে কিনা।আমরা অনেক চেস্টা করেছি।প্রশাসন যদি সহয়তার জন্য আমাদের প্রয়োজন মনে করে। আমরা ছাত্র সমাজ আমাদের প্যারাবন রক্ষার জন্য প্রশাসনের সাথে কাজ করে যাবো। এভাবে অভিযান চলামান রাখার জন্য মহেশখালী প্রশাসনের নিকট বিনীত অনুরোধ থাকবে।
চকো/জে







