সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ও ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন মারা গেছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তিনি কিডনি রোগ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ছায়ানটে নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের মেয়ে সন্জীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক শেষে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন সন্জীদা খাতুন। এরপর ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন।
সন্জীদা খাতুন বাংলাদেশে রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চা এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ক্ষেত্রেও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তখনকার প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা এবং তা আরও অনেকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন যে কয়েকজন, তাদের একজন ছিলেন তিনি।
তিনি একাধারে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী, লেখক, গবেষক, সংগঠক এবং শিক্ষক। সন্জীদা খাতুন তার জীবদ্দশায় একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং ভারত সরকারের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত হন।







