—বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন ব্যক্তিজীবনে খুবই ভুলোমনা ছিলেন।সাজগুজেও ছিলেন উদাসীন।কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের এই অধ্যাপককে দেখা যেত কখনো জামার বোতাম খোলা,পায়ের মোজা গুটানো,চুল এলোমেলো অবস্থায়।মাধ্যাকর্ষণ শক্তি,গতিসূত্রের আবিষ্কারক,রয়েল সোসাইটির সভাপতি নিউটন রাজনীতিও করেছেন। সাহিত্যিকদের উদাসীনতা সম্পর্কে নানান মুখরোচক জনশ্রুতি চালু আছে বাজারে।সার্থক সাহিত্যিকেরা খ্যাতিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যান বলে তাঁদের ভুলচুকের গল্পও বেশি করে মানুষেরা।আসলে সব ভুল ভুল নয়।সৃষ্টিশীল ব্যক্তিমাত্রই স্বভাবে অন্য দশজন থেকে আলাদা।বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর তো বিয়ের দিন প্রায় লাপাত্তাই ছিলেন।বরপক্ষ, কনেপক্ষ অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্যহীন হয়ে গিয়েছিলো।শেষাবধি এক বন্ধু নানান জায়গায় খোঁজার পর দেখা পান ল্যাব্রটারিতে।বন্ধুকে লুই পাস্তুর বলেছিলেন,গবেষণা শেষ না করে বিয়ের আসরে কীভাবে যাই! বাস্তব জগৎ সম্পর্কে নিউটনের ধারণা কম ছিল বলে প্রচার আছে।এ সম্পর্কিত একটি ঘটনা বলি- একদিন এক লোক তাঁর বাড়িতে এসে একটি প্রিজম(তিনকোণা কাচ)দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো এর দাম কত হতে পারে?প্রিজমের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব বুঝে নিউটন বললেন,এর মূল্য নির্ণয় করা আমার সাধ্যের বাইরে।লোকটি ভাবলো,এই তো বেকুপের হদ্দ একটি পেয়েছি।লোকটি জোরে দর হাঁকল প্রিজমের।দরদাম না করেই নিউটন এটি কিনে নেন। পরে বাড়ির মালিক প্রিজমটি কত দামে কেনা জানতে চেয়েছিলেন।দাম শুনে মালিক বলেছিলেন,তুমি আস্ত বোকা।কাচের ওজন অনুযায়ী দাম দিলে অনেক কম পয়সায় পেতে।নিউটন হেসেছিলেন।পরে এই প্রিজম নিয়ে গবেষণা করেই তিনি উদ্ভাবন করেন বর্ণতত্ত্ব বা Theory of colour. কী বুঝা গেলো!আসলে যে যা বুঝেন।
রুহুল কাদের






