নিষেধ করা সত্বেও পুনরায় জোর করে বলৎকারের চেষ্টা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে সাইফুদ্দিনকে খুন করা হয় বলে আটককৃত যুবক স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) দুপুর ২টায় কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাইফুদ্দীন হত্যার রহস্য উন্মোচনে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আশরাফুল ইসলাম ও ভিকটিম সাইফুদ্দীন সম্পর্কে শালা-দুলাভাই (চাচাতো)। তারা উভয়ের ভাল সম্পর্ক ছিল। রাতে আটকের পর মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি জানান, নিহত সাইফুদ্দিন মাদকসেবনের পর হোটেল সানমুনের ২য় তলার ২০৮ নম্বর কক্ষে নিয়ে আশরাফুলকে বলাৎকার করে ভিডিও ধারণ করে রাখে। এর প্রতিশোধ নিতেই সাইফউদ্দিনকে হত্যা করে আশরাফুল।
এসময় ঘাতক আশরাফুল ইসলামের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আরো বলেন – ভিডিও ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে সাইফুদ্দিন মাদ্রাসা ছাত্র আশরাফুলকে আবারো হোটেল কক্ষে নিয়ে যান।
সেখানে জোর করে বলৎকারের চেষ্টা করে তাকে। তখন আশরাফুল তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে সাইফুদ্দিনতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। গোঙ্গানির শব্দ বের না হওয়ার জন্য বেডশিট দিয়ে মুখ চেপে ধরে এবং বেল্ট দিয়ে হাত বেঁধে রাখে। তারপর নিহত সাইফুদ্দিনের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় আশরাফুল।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল সানমুনের ২য় তলার ২০৮ নম্বর কক্ষ থেকে সাইফুদ্দিন নামে (৩০) এর দু হাত বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ ঘোনাপাড়ার আনসার কমান্ডার আবুল বশরের পুত্র।
তবে পুলিশের কাছে খুনি যে বক্তব্য তা অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কারণ ওই ভিডিও ফুটেজ দেখে দেখা যায়:
প্রথমে একটা ছেলে নিজ ইচ্ছায় গেলো। ভিডিও ফুটেজ দেখে মনে হলো দ্বিতীয়বারও সে স্বইচ্ছায় গেছে।
প্রশ্ন উঠছে, দ্বিতীয়বার যখন ছেলেটি প্রতিবাদ করলো এবং পরপর ছুরিকাঘাত করলো তখন কি ভিকটিম একবারও নিজের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেননি? করাটাই কিন্তু স্বাভাবিক ; যদি করে থাকেন তাহলে খুনির কাপড়ে তার ছাপ পড়ার কথা। কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তার কাপড়-চোপড়ে তেমন কোন চিহ্ন নাই।
বরং সর্বশেষ ভিডিও ফুটেজ লক্ষ্য করলে দেখা যায় ছেলেটি কাপড়-চোপড়ের খুব পরিপাটি হয়ে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবে হোটেল থেকে নেমে এসেছে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে চলে গেছে!
আরও লক্ষ্য করলে দেখা যায় হোটেল থেকে নেমে আসা থেকে শুরু করে, গ্রেফতার হওয়া এবং পুলিশ ভ্যানে করে আসা পর্যন্ত সে ছিল খুবই স্বাভাবিক এবং হাস্যোজ্জল এবং সাবলীল। নিজ হাতে একজন মানুষ খুন করার পর কিভাবে একজন মানুষ এমন স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে?
তাই প্রশ্ন হচ্ছে:
এক. সাইফুদ্দিন এর খুনি একজনই নাকি এই তার সাথে আর কেউ জড়িত আছে?
দুই. খুনি কি শুধুমাত্র আবেগের বা ক্রোধের বশীভূত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে নাকি সে একজন প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সুষ্ঠু মস্তিষ্কের ঠান্ডা মাথার খুনি?
তিন. খুনি যে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেছে সেটি যে এনজিওর অর্থায়নে পরিচালিত হয় তাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদের অভিযোগ রয়েছে। সেই মাদ্রাসায় কি এমন কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যেন একজন কোমলমতি কিশোর একজন ঠান্ডা মাথার খুনিতে পরিনত হয়?
এই প্রশ্নগুলোর সুরহা না হওয়া পর্যন্ত আটককৃত যুবক যে বক্তব্য দিয়েছে তাকে শতভাগ বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে সচেতন মানুষ মনে করে।







