কক্সবাজারের পেকুয়ায় পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে মতবিনিময় করলেন পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূর্বিতা চাকমা।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে।
এ সময় পেকুয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ২শতাধিক পল্লী চিকিৎসক সেখানে উপস্থিত হন।
মতবিনিময় সভায়, পল্লী চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা বলেন,’আপনাদের নিয়ে বৈঠক করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পল্লী অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবা পৌঁছিয়ে দিতে পল্লী চিকিৎসকদের সেবা অত্যন্ত তাৎপর্য্যময়। আপনারা মানুষের পাশে থেকে থাকেন বলে পল্লীর হতদরিদ্র মানুষগুলো প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেয়ে থাকেন। সে দিন অনাকাংখিত ঘটনা হয়েছে। আমরা ওই পরিস্থিতির জন্য দু:খ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে যাতে করে আর কোন অনাকাংখিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এ বিষয়ে প্রশাসন ও পল্লী চিকিৎসকদের সজাগ থাকতে হবে। চিকিৎসা পেশায় আদর্শিকতা থাকতে হবে। নিবন্ধন ব্যতীত কাউকে ডাক্তার লিখা যাবে না। আপনারা প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিবেন। সেলাই, ড্রেসিংসহ নরমাল চিকিৎসাগুলি পল্লী চিকিৎসকরা করে থাকেন। জটিল চিকিৎসা হলে রোগীকে আপনারা হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠিয়ে দিবেন। প্রয়োজনে আপনাদেরকে নিয়ে আরো বৈঠকে মিলিত হবো। ট্রেনিং ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পল্লী চিকিৎসকদের জ্ঞানের পরিধি ও চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি করার জন্য আমাদেরকে আন্তরিক হতে হবে। মনে রাখবেন সরকারের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিধি আমরা সকলকে উপলদ্ধি করতে হবে এবং মানতে হবে।’
এ সময় বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মুজিবুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার পিয়াল পাল, পল্লী চিকিৎসকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাফর আহমদ, নুরুল কবির, নুরুল কাদের, নাছির উদ্দিন, ডেন্টিস্ট আবদুল মান্নান, মো: সোহেল মানিক। পল্লী চিকিৎসক এমএ রহিমের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য দেন পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিক মোহাম্মদ ফারুক, নাজিম উদ্দিন, এফএম সুমন। উপস্থিত ছিলেন পেকুয়ার কর্মরত সাংবাদিক মুহাম্মদ হাসেম, সাংবাদিক রিয়াজ উদ্দিন, রেজাউল করিম প্রমুখ। এ সময় পল্লী চিকিৎসকদের মধ্যে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নের দুই শতাধিক পল্লী চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে পল্লী চিকিৎসকরা বলছেন, ‘সে দিন অভিযানের নামে পল্লী চিকিৎসকদের অপমান ও মানহানি করা হয়েছে। আমরা ডাক্তার নই। সেটি আমরা লেখিও না। তবে আমরা পল্লী চিকিৎসক। আমাদের মাঝে অনেকেই ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। সে দিন আমাদেরকে চরমভাবে হেয় করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ২৭ সেপ্টেম্বর পেকুয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতে ৯ জন পল্লী চিকিৎসককে অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়।
এ সময় ৯ পল্লী চিকিৎসককে আটক করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই ৯ জন চিকিৎসককে গলায় প্ল্যাকার্ড লাগানো হয়। ভূয়া ও প্রতারক লিখে প্ল্যাকার্ডসহ ছবি তোলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পেকুয়ায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়। ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর প্রেক্ষিতে ওই দিন পেকুয়ার ইউএনও পূর্বিতা চাকমা পল্লী চিকিৎসকদের নিয়ে জরুরীভাবে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন।







