কক্সবাজারের উখিয়া পালংখালীতে মাছ ধরতে যাওয়া এক জেলেকে গত ২৩ সেপটেম্বর শনিবার দুপুরে ইয়াবা কারবারীরা জাল দিয়ে হাত পা বেঁধে বেদড়ক মারধর করে নাফনদীতে ফেলে দেয়ার ২৪ ঘন্টা পর রবিবার দুপুরে ক্ষত বিক্ষত জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।লাশ উদ্ধারের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
যারা এঘটনার সাথে জড়িত তারা পলাতক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের সক্রিয় ক্যাডার বলে দাবী স্থানীয়দের। ঘটনাস্থল জিরো পয়েন্টে, তাই ওই জেলেকে উদ্ধার করতে গিয়ে ও বিজিবির বাঁধার মূখে গত ২৩ সেপ্টম্বর বিকালে উখিয়ার ফায়ার সার্ভিস এণ্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি টীম ফেরৎ চলে আসে। তবে আত্মীয় স্বজনরা নাফ নদীতে নেমে নিখোঁজ জেলের সন্ধান করছেন। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, পুলিশের একটি টীম এস আই কাউছারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে নদীতে তল্লাশি করে জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাফরুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, ওই জেলে নাফনদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছিল ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীর গড়ফাদার আরসা নেতা নবী হোসেন মায়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত উখিয়া পালংখালী আনজুমন পাড়া উলুবনিয়া,ফারিরবিল,রহমতের বিল সীমান্ত দিয়ে চারটি স্থানীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা,আইস ও অস্ত্র পাঠাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।
গত বছর এই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনকে ধরতে ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন বিজিবি। এর পর থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী বহু অপকর্মের হোতা নবী হোসেন পালিয়ে যায় মায়ানমারে।সেখান থেকে পরিচালনা করে বাংলাদেশে ডুকাচ্ছে মাদক ও অস্ত্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে নাফনদী পার হয়ে আনজুমনপাড়া পয়েন্ট দিয়ে ৭/৮ জন যুবক বিজিবি টহল ফাঁকি দিয়ে ইয়াবার বড় চালান নিয়ে এ পারে উঠে আসলে নাফনদীর এ পারে মাছ ধরতে যাওয়া পালংখালীর ৮ নং ওয়ার্ডের বাদিতলার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে কাশেম আলী প্রকাশ বেদু (৩২) দেখে ফেলে। সে বিজিবি কে খবর দেয়ার চেষ্টা করলে ইয়াবাকারবীরা তাকে বেদড়ক মারধর করে জাল দিয়ে হাত পা বেঁধে নাফ নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে জানান আবুল খাইর নামে এক ব্যক্তি।সে দূর থেকে এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করছিলেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সীমান্তের এসব ঘটনার সাথে স্থানীয় ইউপি সদস্যের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এই ইউপি সদস্যের নাম দিয়েছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মেহমান।মূলত এই মেহমানই নবী হোসেনের সাথে চিংড়ি ব্যবসার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা।তার বিরুদ্ধে হত্যা ধর্ষণ, লুটপাট, অস্ত্র ও মাদক আইনে ১৫ থেকে ১৮ টি মামলা রয়েছে। তার ইয়াবা ব্যবসার দেনা পাওনা নিয়ে স্থানীয় লুৎফর রহমানের সাথে মেম্বার জাফরুল ইসলাম বাবুলের মোবাইলে অডিওর কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন,নাফনদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলে নিখোঁজের কথা শুনেছি। এ ঘটনার অন্তরালে অন্য কোন ঘটনা আছে কী না তা তিনি জানেননা।তিনি আরো বলেন পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তদন্ত করছেন।এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।







