৩১ জুলাই, ২০২২ বুয়েটের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে সিদ্ধান্ত নিলাম শাবাবকে নিয়ে অনতিদূরে ঢাকেশ্বরী মন্দির দেখতে যাব।
এর অবস্থান পলাশীর মোড়,বুয়েট শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ঢাকেশ্বরী রোড়ের উত্তর পার্শ্বে একটি অনুচ্চ আবেষ্ঠনী প্রাচীরের মধ্যে।
বহুবার এর আশপাশ দিয়ে গেলেও এর ভেতরে কখনও যাওয়া হয়নি আমার।সেদিন সকাল ১১ টার দিকে ইত্যবসরে আমরা মন্দির দেখতে গেলাম।সেইসময় তেমন লোকজন নেই,কিছু পূজারি মণ্ডপে পূজা অর্চনা দিচ্ছে, কিছু পূজারি আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আমরা ইচ্ছে মত প্রায় পৌনে একঘন্টা দেখলাম মন্দিরের নানা দিক।কোনো গাইড না পাওয়ায় মন্দিরের সামগ্রিক দিক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে পারলাম না,তবে এর বহিরাবরণ সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেলাম।
উল্লেখ্য,আমাদের দেশে বায়তুল
মোকারম যেমন জাতীয় মসজিদ হিসেবে খ্যাত,তেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের এই পবিত্র স্থান জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিগনিত।
এ মন্দির সম্পর্কে বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি কতিপয় মন্দির ও এর সংলগ্ন সৌধমালার সমষ্টি।একে দুটি অংশে বিভক্ত করা যায়।পূর্বদিকস্থ অন্তর্বাটি ও পশ্চিমদিকস্থ বর্হিবাটি।অন্তর্বাটিতে রয়েছে প্রধান মন্দির ও মন্দিরের সম্মুখস্থ নাট মন্দির ও অন্যান্য ইমারত।বর্হিবাটিতে রয়েছে
কয়েকটি মন্দির, একটি পান্থশালা ও বেশ কয়েকটি বহিঃকক্ষ। পশ্চিমে রয়েছে উত্তর-দক্ষিণে লম্বমান একটি প্রাচীণ দিঘি যার চারদিকে একটি পায়ে চলাপথ বিরাজমান। দিঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আছে একটি প্রাচীণ বটবৃক্ষ। এ দিঘি ও বিশ্রামাগারের পূর্বপাশে সাধুদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত কয়েকটি সমাধি রয়েছে।
আরও উল্লেখ্য,মন্দিরের তিন গম্বুজবিশিষ্ট ছাদ,খিলান সমন্বিত তিনটি প্রবেশপথ এবং প্লাস্টার করা দেওয়াল একটি জোরালো বিশ্বাসের জন্ম দেয় যে, বাংলার মুঘল স্থাপত্য
রীতিতেই এ মন্দির নির্মিত।
এখানে আরকানী বৌদ্ধ মন্দিরের মতো পুকুর, অশ্বত্থবৃক্ষ,বাগান,মঠ,
পান্থশালা, সন্ন্যাসীর আশ্রম,মন্ডপ,
বারান্দা,সভাগৃহ ইত্যাদি রয়েছে।সেই সাথে আরকানী ধর্মের মতো বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সর্বজনীনতা প্রকাশ পায় সকলের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারে।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দশভুজা দেবীর বিশিষ্ট কোনো নাম নেই। কোথাও তিনি রাজেশ্বরী,কোথাও তিনি দূর্গা,
আবার কোথাও তিনি মহাময়া বা চণ্ডী।শহরের পৃষ্ঠপোষক ঈশ্বরী হিসেবে এ দশভুজা দেবীর নাম হয়েছে ঢাকেশ্বরী(ঢাকা+ ঈশ্বরী)।
দেবীমূর্তিটি মাটির নিচে পাওয়া গিয়েছিল,তাই এর নামকরণ এরূপ হয়েছে। কিংবদন্তি রয়েছে যে,সেন রাজা বল্লাল সেন মূর্তিটি খুঁজে পান এবং তিনি দেবীর জন্য এ মন্দির নির্মাণ করেন।
ইতিহাস অনুরাগী বন্ধুদের প্রতি রইলো নিরন্তর শুভকামনা।







