কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় গড়ে তোলা দেশের প্রথম ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারী পার্কে বন্যপ্রাণী মারা যাবার ঘটনা আশংকাজনক হারে বাড়ছে।
বার্ধক্যজনিত ও নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে গেল এক বছরে দুটি হাতি ও চারটি সিংহ মারা গেছে। এ অবস্থার কারণে সাফারি পার্কে বিচরণরত অবশিষ্ট বন্যপ্রাণী গুলোকে কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তুলছেন পরিবেশ সচেতন মহল।
সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী থেকে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ বছরে চারটি সিংহ ও দুটি হাতি মারা যায় সাফারী পার্কে।
তন্মধ্যে, ৮৬ বছর বয়সী ‘রঙমালা’ নামক হাতিটি গত ৩০ ডিসেম্বর বার্ধক্য ও পিত্রনালীতে আড়াই কেজি ওজনের গলব্লাডার (পাথর) জমায় মারা যায়।
‘সৈকত বাহাদুর’ নামক ৩২ বছর বয়সী হাতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ২৮ নভেম্বর।
বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী মারা যায় ২২ বছর বয়সী সিংহ ‘সোহেল’। পার্কে সঙ্গী সম্রাটের সাথে মিলনের সময় আহত ১০ বছর ৮ মাস বয়সী সিংহী ‘নদী’ ‘ফিলাইনলিউকিমিয়া’ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছরের ২২ এপ্রিল মারা যায়।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারী মারা যায় ১৬ বছর বয়সী সিংহ ‘রাসেল’। এই সিংহটি এনাপ্লাজমা ও বিউবমিয়া স্পিসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
একই রোগে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মারা যায় রাসেলের বোন ১৫ বছর বয়সী সিংহী ‘টুম্পা’।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( রেঞ্জ অফিসার) মো মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন বয়সের ৪ টি হাতি পার্কে রয়েছে।
বর্তমানে দুটি সিংহী ও একটি সিংহ আছে সাফারী পার্কে। অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী গুলো সুস্থ ও সবল রয়েছে। নিয়মিত দেখভালসহ পর্যাপ্ত খাদ্য দেয়া হচ্ছে পশু পাখিগুলোকে।’
চারটি সিংহ ও দুইটি হাতির মৃত্যুর ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর আগের সুস্থ করে তুলতে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছিল। এরপরও বার্ধক্য এবং জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চারটি সিংহ ও দুইটি হাতি মারা যায়।’##







