কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দমনিবিল নামক এলাকায় লবণ পানি ঢুকিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মৎস্য চাষে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় ওই এলাকার আশপাশের বিপুল পরিমাণ ধানক্ষেত লবণ পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতকরে চাষাবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক কৃষক।
লবণ পানি ঢুকানোর কারণে কৃষকদের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি আমলে নিয়ে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি বিরোধী তথ্য প্রকাশকারী সংগঠনের প্রতিনিধি কাদের হোছাইন বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান এর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
প্রশাসনের দপ্তরে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার মাহাবুবুল হক, রবি আলম ও মো.টুনু মিয়াকে বিবাদি করা হয়েছে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, লবণ পানি ঢুকিয়ে মৎস্য চাষের কারণে কৃষকের ধানক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এইধরনের লিখিত অভিযোগ পেয়ে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান বলেন, খুটাখালী ইউনিয়নের দমনিবিল বারজইন্যাঘোনা এলাকায় লবণ পানি ঢুকিয়ে মৎস্য চাষের কারণে কৃষকের বিপুল পরিমাণ ধানক্ষেত নষ্ট হচ্ছে ঘটনাটি সঠিক।
ইউএনও চকরিয়ার নির্দেশনা পেয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) অভিযুক্ত মাহাবুবুল হকসহ জড়িত সবাইকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে এনে বৈঠক করি। পরে তাদেরকে লবণ পানি না ঢুকানোর জন্য আমরা বারণ করি। পাশাপাশি বিষয়টি নজরদারি রাখতে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ সেলিমকে নির্দেশ দিই।
স্থানীয় কৃষকেরা বলেছেন, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া মৌজার বিএস ১৪৯, ১৮২ নম্বর খতিয়ানের দমনবিল এলাকায় শতাধিক কৃষকের ধানী জমি রয়েছে। এ জমিতে তারা দুই মৌসুমে শাখাখালের মিঠাপানি নিয়ে ধানচাষ করে আসছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, সম্প্রতিসময়ে অভিযুক্ত প্রভাবশালী মাহাবুবুল হক, তার সহযোগী রবি আলম ও টুনু মিয়া মিলে স্লুইস দিয়ে লবণ পানি ঢুকিয়ে মৎস্য চাষে নেমেছে।
এই অবস্থার কারণে বর্তমানে ওই এলাকার কৃষকের বেশিরভাগ ধানক্ষেত লবণ পানিতে তলিয়ে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, কায়েস উদ্দিন নামের একজনকে অঘোষিত ইজারাদার সাজিয়ে অভিযুক্তরা মৎস্য চাষের জন্য কৃষকদের ওই জমি লাগিয়ত দেওয়া হয়েছে দেখিয়ে লবণ পানি ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তাতে করে ভুক্তভোগী কৃষকেরা বোরোধান চাষাবাদ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আরও বলেন , আমাদের ধানী জমিতে প্রভাবশালী মহল কতৃক লবণ পানি ঢুকিয়ে মৎস্য চাষ করার ঘটনাটি ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি বিভাগের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো তাদের বিরুদ্ধে আইনী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাতে করে জড়িতরা আরও বেপরোয়া হয়ে জমিতে লবণ পানি ঢুকিয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
লবণ পানিতে কৃষকের ক্ষতিসাধন হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দায়িতপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার আশরাফ হোসেন। তিনি বলেন, ধানীজমিতে লবন পানি ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে সত্যতা পেয়ে বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কদিন আগে বিষয়টি নিয়ে খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ইউপি চেয়ারম্যান জড়িত সবাইকে ধানীজমিতে লবন পানি না ঢুকানোর জন্য নিষেধও করেছেন। এখন শুনছি, তারা চেয়ারম্যান মেম্বারের কথা অমান্য করে আবার লবণ পানি ঢুকাচ্ছেন।







