চকরিয়া উপজেলার উপকূলের লবণ উৎপাদন এরিয়ায় ১৫০ একর লবণ মাঠের পলিথিন কেটে তছনছ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গান্ধিপাড়া এলাকায় কে বা কানা তাণ্ডব চালিয়ে এ লবণ মাঠের পলিথিন কেটে দেয়। গতকাল রোববার সকালে চাষীরা মাঠে কাজ করতে পেয়ে ঘটনাটি লবণ মাঠ মালিকদের জানান। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান ও অপর শেয়ার হোল্ডারের মালিকানাধীন ২শত একর জমি চিংড়ি চাষের জন্য চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেকান্দর বাদশা নাগু লীজ নেয়। বর্ষা মৌসুমে চিংড়ি চাষ হলেও শুস্ক মৌসুমে লবণ পানি ঢুকিয়ে এসব জমিতে লবণ উৎপাদন করা হয়।
চাষী সেকান্দর বাদশা বলেন, স্থানীয় ৭২ জন লবণ চাষীকে এই জমি বর্গা হিসেবে লাগিয়ত দেয়া হয়। গত দেড় মাস ধরে কাজ করে এসব জমি লবণ উৎপাদনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকদিন আগে পলিথিন বসিয়ে লবণ পানি ঢুকানো হয়। লবণও তৈরী হচ্ছে।
এরই মধ্যে গতকাল শনিবার রাতে কতিপয় দুর্বৃত্তরা লবন জমিতে হানা দিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে অন্তত দেড়শত একর লবণ মাঠের বসানো পলিথিন কেটে দিয়ে লবণ নষ্ট করে দিয়েছে।
চিংড়িজমি মালিক পক্ষের অংশিদার ইউপি মেম্বার আতিকুর রহমার বলেন, কারা কেন রাতের আঁধারে এইধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটিয়েছে জানিনা। এতে ৭২ জন কৃষক তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসবে।
ক্ষতিগ্রস্থ লবণ চাষী বাহাদুর আলম বলেন, লাভের আশায় দুই একর জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করি। প্রতি একর জমি চাষের জমি তৈরী করতে ৫০হাজার টাকা খবচ হয়েছে। এখন আমি কি করব ভেবে পাচ্ছি না।
অপর চাষি হেলাল উদ্দিন বলেন, দেড়শত একর জমি বর্গা নিয়ে গত দেড় মাস ধরে চাষাবাদ করে লবণ মাঠের জন্য তৈরী করেছি। লবণ উৎপাদনের শুরুতে দুর্বৃত্তরা লবণ মাঠের পলিথিন কেটে দেওয়ায় আমাদের অন্তত ৮-১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, লবণ মাঠের পলিথিন কেটে দেওয়ার বিষয়টি মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চকো/জে







