প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিলে মিলবে বই, গাছের চারা, ঝিনুকের অলংকারের মতো আরও হরেক রকমের উপহার। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে এসে চা, কফি, মিনারেল ওয়াটার ও এনার্জি ড্রিংক পান করার পর অবশিষ্ট ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপ অথবা বোতল সৈকতের বালিয়াড়ি কিংবা পানিতে না ফেলে জমা দিলে বিনিময়ে দিচ্ছে ঘর সাজানোর নানান উপহার। পর্যটকদের কাছ থেকে এসব প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের জন্য পৃথক তিনটি বুথ বসানো হলো সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলি পয়েন্টে। যেই বুথে সরাসরি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নেয়া যাবে উপহার।
প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রভাবে সৈকতের দূষণ ঠেকাতে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাসব্যাপী এমন অভিনব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তথ্যমতে প্রতিদিন সৈকতে যে পরিমাণ বর্জ্য জমা হয় তার ৭৮ ভাগই প্লাস্টিকের বর্জ্য। প্লাস্টিক বর্জ্যের দূষণে বিপর্যস্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। যার জন্য বেশিরভাগই দায়ী ওয়ান টাইম প্লাস্টিক ও তার ব্যবহার।
তাই ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে উপহার নিন’ প্রতিপাদ্যে সৈকতকে প্লাস্টিকের বর্জ্যমুক্ত ও সচেতনতার লক্ষ্যে মাসব্যাপী প্লাস্টিক বর্জ্যে সংগ্রহ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিদ্যানন্দ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার সময় মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেট মো. আবু সুফিয়ান। এসময় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি বলেন,পর্যটকদের সচেতনতার লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দের যৌথ উদ্যোগে আমাদের এ আয়োজন। মাসব্যাপী কর্মসূচি মূলত বাস্তবায়ন করবে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। যাতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। আমরা চাই দ্রুত প্লাস্টিক বর্জ্য মুক্ত সৈকত। প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে বহুগুণে। আমি মনে করি সৈকতের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় বিদ্যানন্দের এমন কার্যক্রম অভাবনীয় ভূমিকা পালন করবে।
ব্যতিক্রমধর্মী এমন উদ্যোগ বেশ সাড়া পড়েছে সৈকতে পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে। পর্যটক ও স্থানীয়রা বলছেন, সমুদ্র সৈকতের লাবণী থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পর্যটকের বিচরণ থাকে। এর ফলে প্লাস্টিক থেকে শুরু করে নানা বর্জ্য যত্রতত্র পড়ে থাকে, যেগুলো পরবর্তীতে সাগরের পানিতে ভেসে যায়৷
পর্যটক হাবিবুর রহমান জানান, এমন ব্যতিক্রম এই উদ্যোগ সমুদ্র সৈকতকে প্লাস্টিক দূষণের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করবে বলে মনে হয়।
শীতের আমেজ বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয়েছে কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুম। আগামী টানা দুইমাস পর্যটকের চাপ থাকবে কক্সবাজারে। আয়োজকরা জানান, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া সচেতনতামূলক এই কর্মসূচি আগামী দুইমাস ব্যাপী চলবে।
এই কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দীন, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর জামান কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল ইসলাম,বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ সহ অনেকে।







