পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের সুতাচুরা এলাকায় সরকারি বদ্ধ জলমহালে (খাল) অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মৎস্যঘের তৈরীর অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন চিঠি দিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে জলমহালের ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি তাতে কোনধরনের কর্ণপাত করছে না। এ অবস্থায় চিঠি দিয়ে দায় সেরে গেল তিন বছর ধরে নিরব রয়েছেন পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন! । এতে সরকারি জলমহালটি বেদখল হয়ে পড়ায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত জেলা প্রশাসনের ১নং খাস খতিয়ানের প্রায় ২০ একর আয়তনের উজানটিয়া-সুতাচূরা জলমহালটি (খাল) কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তিন বছর পর পর স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবি সমিতিকে ইজারা দিয়ে রাজস্ব আদায় করে। গত পাঁচ বছর পূর্বে উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাককালীন সময়ে শহিদুল ইসলাম চৌধুরী কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে জলমহালটি তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়ে ইজারার শর্ত লংঘন করে জলমহালের একাংশে মাটির বাঁধ দিয়ে মৎস্যঘের তৈরী করেছে। ২০ একর আয়তনের জলমহালের প্রায় ১একর জায়গা জবর দখলে নিয়েছে উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
উজানটিয়া ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জলমহালের শ্রেণী পরিবর্তন করে ব্যক্তিগত মৎস্যঘের তৈরী করলেও প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি। খালটি দখলমুক্ত ও পূর্বের রূপ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৮ সালে ২০ একর আয়তনের জলমহালটি নামমাত্র ৯০ হাজার টাকা মূল্যে তিন বছরের জন্য ইজারা নেন উজানটিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম। কিন্তু কিছুদিন সময় যেতে না যেতেই দখলের মাধ্যমে জলমহলের শ্রেণী পরিবর্তন করে সরকারি বদ্ধ জলমহালের একাংশে বাঁধ দিয়ে জবর দখল করে নেয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থনীয়রা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই সময় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন। উক্ত তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের ১৭জুন ঘটনাস্থলে পরির্দশন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরইপ্রেক্ষিতে পেকুয়া উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: মাহাবুবউল করিম অবৈধ নির্মিত বাঁধ কেটে জলমহালটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে একটি লিখিত আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় ৫বছর পার হতে চললেও উপজেলা প্রশাসনের সে নির্দেশনা মানেননি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।
এব্যাপারে জানতে চাইলে উজানটিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এক সময় উজানটিয়া-সুতাচুরা জলমহালটি আমি ইজারা নিয়েছিলাম। সেসময় মৎস্য চাষের সুবিধার্তে একটি বাঁধ দিয়েছিলাম। আর সেখানে আমার কিছু খতিয়ানী জায়গা রয়েছে। সরকারী জলমহালের জায়গা কীভাবে নিজের নামে খতিয়ানী জায়গা হতে পারে প্রশ্ন করা হলে তিনি আর কোন মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা মিজু মিয়া, মোশরফ হোছাইনসহ অনেকে দাবি করেন, রহস্যজনকভাবে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন নীরব থাকায় নিজের সুবিধামতো উল্টো দখলের পরিধি বাড়িয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চাই থোয়াইহালা চৌধুরী বলেন, বিষয়টা যেহেতু এখন জেনেছি, খতিয়ে দেখেছি। অবশ্যই সরকারী জলমহালটি জবর দখলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী সরকারি এই জলমহাল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালায় প্রতিনিয়ত। তার পছন্দের ইজারাদার না হলে তিনি স্থানীয় কতিপয় সন্ত্রাসী টাইপের লোক লেলিয়ে দেয় ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। ফলে ওই জায়গায় আতংক বিরাজ করে সবসময়।
চকো/জে







