কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের ব্লক রেইড অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাত ব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গা থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ আরসার কথিত কমান্ডার সেলিম প্রকাশ মাস্টার সেলিম সহ ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মাড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন এর সদস্যরা।
এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
আজ মংগলবার সকালে ৮ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো কামরান হোসেনের দেয়া এক প্রেস রিলিজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার উখিয়া উপজেলার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে ৮ আর্মাড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন এর একটি টিম ক্যাম্পে ব্লক রেইডের সিদ্ধান্ত নেয়।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে জামতলী এপিবিএন ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা সন্ধ্যা থেকে রাতে ক্যাম্পের ব্লক-ডি/১৩ এর উল্লিখিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে পুলিশ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ১৩ নম্বর ক্যাম্পের এনায়েত উল্লাহ (২০) , পিতা-আমির হোসেন ১৯ নম্বর ক্যাম্পের আব্দুল আমিন(২৮),পিতা-মৃত-শফিক, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের নুর মোহাম্মদ (২৯),পিতা- আব্দুস সালাম, ১৪ নম্বর ক্যাম্পের রফিক(২১), পিতা-মৃত-কাশিম ১৫ নম্বর ক্যাম্পের মো: রফিক (২৫), পিতা- মৃত-দিল মোহাম্মদ একই ক্যাম্পের
ফিরোজ মিয়া(২২),পিতা- মাসুদ মিয়া, ১৩ নম্বর ক্যাম্পের মো: আরিফ উল্লাহ(৩২),পিতা- মৃত আব্দুল গফ্ফারকে আটক করে।
তাদের কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত লোহার তৈরী দা, কাঠের বাটযুক্ত হাসুয়া, লোহার রডের তৈরী শাবল, সিমকার্ড, মোবাইল ফোন, নোট বুক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ১৫ নম্বর ক্যাম্পের সিআইসি অফিসের সামনে থেকে এই সন্ত্রাসী গ্রুপের লিডার মো:ছলিম মাস্টার (২৬)কে আটক করে।
এপিবিএন এর এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান
গ্রেফতারকৃত আসামী (১) এনায়েত উল্লাহ , (২) আব্দুল আমিন, (৩) নূর মোহাম্মদ, (৪) মোঃ রফিক(২১), (৫) মোঃ রফিক (২৫) ও (৭) মোঃ আরিফ উল্লাহ আরসার অন্যতম নেতা আনাস এর ঘনিষ্ঠ সহচর এবং আরসা সদস্য, গ্রেফতারকৃত ৬ নং আসামী ফিরোজ মিয়া চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং আরসার অন্যতম সদস্য এবং ৮ নং আসামি গ্রেফতারকৃত ছলিম আরসার স্হানীয় কমান্ডার।
গ্রেফতারকৃত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে এপিবিএন পুলিশ।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিজ অফিসে খুন হন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতা মুহিব্বুল্লাহ।
৩০ সেপ্টেম্বর রাতে মুহিব্বুল্লাহর ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
মুহিব্বুল্লাহকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ কথিত আরসার সদস্যরা খুন করেছে বলে সাধারণ রোহিঙ্গারা অভিযোগ করেছেন।
এর পর থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন ও থানা পুলিশ নিয়মিত ব্লক রেইড দিয়ে আসছে। মুহিব্বুল্লাহ হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর মধ্যে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ইলিয়াস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি দিয়েছে।
এ ছাড়া ক্যাম্প গুলোতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত কথিত আরসা সদস্য সহ ৩০ জনেরও বেশী সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।






