বছরঘুরে আজ এসেছে ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইনস ডে)। জীবন চলার পথে প্রতিটি মানুষ তাঁর প্রিয়জনকে সাধ্যমতো ভালোবাসা উপহার দেন। তবে আজকের ভালোবাসা দিবসের দিনে অনুরাগী মানুষগুলো তার প্রিয়জনকে একটু আলাদা করেই ভালোবাসতে পছন্দ করেন। এমনকি সার্মথ্য অনুযায়ী অনেকে নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে প্রিয়জন কিংবা পরিবার পরিজনের কাছে স্বরণীয় করে রাখতে কমবেশি চেষ্টা করে থাকেন।
তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির এইযুগে প্রিয়জনকে ভালোবাসার শুভেচ্ছা জানানোর নানা মাধ্যম তৈরি হলেও এখনো কমবেশি সবার কাছে ভালোবাসার অন্যতম অনুভূতি হিসেবে কাজ করছে কাঁচা ফুল।
এই প্রেক্ষাপটে কাঁচা ফুলের ব্যাপক চাহিদা ঘিরে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসে ফুল কাটা, প্যাকেটজাত থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌছানো নিয়ে বেশ সরগরম হয়ে উঠে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গোলাপ নগর খ্যাত বরইতলী ও হারবাং এলাকা শতাধিক বাগানে।
চাহিদা অনুসারে গতকাল মঙ্গলবার বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের শতাধিক বাগান থেকে কয়েক লাখ গোলাপ ফুল কক্সবাজার শহর, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠিয়েছেন চাষীরা। পাইকারি ও খুচরা অর্ডারে এবারের ভালোবাসা দিবসে চকরিয়ার চাষিরা কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয় ফুল চাষিরা জানান, গোলাপ নগরখ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে শতাধিক বাগানে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিক বাণিজ্যিকভাবে সৃজিত রকমারি ফুলের বাগানে পালাক্রমে কাটার কাজ করছেন। গতকাল বিকালে দেখা গেছে, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ফুল বেচাকেনার ধুম পড়েছে এখানে। গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুল বিক্রি হচ্ছে বেশি। এতে বেশি লাভের মুখ দেখছেন এখানকার চাষিরা।
বরইতলী থেকে পাইকারি কিনে চট্টগ্রাম শহরের চেরাগি পাহাড় এলাকায় বিক্রি করতে নিয়ে যাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার পিস ফুল কেনা হয় চকরিয়ার বরইতলী থেকে। বিশেষ দিবসে তা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আগাম অর্ডার দেয়া হয় প্রায় ২০ হাজার গোলাপ ও গ্লাডিওলাস ফুলের।
বরইতলী ইউনিয়নের উপরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, একশত একর জমিতে গোলাপ চাষ করেছি। সবমিলিয়ে আমার এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন দৈনিক ৮০০ পিস গোলাপ ফুল বাগান থেকে কাটা হচ্ছে। মাসে ১৫ বার ফুল কাটা হয়।
তিনি বলেন, নিয়মিত একটি গোলাপ ফুল বাগান থেকে তিন অথবা চার টাকা দামে বিক্রি করতাম। ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চাহিদা থাকায় গতকাল একটি গোলাপ ফুল ১০ টাকা দামে বিক্রি করেছি। এভাবে বছরে কয়েকটি দিনে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়, সেসময় দামও ভালো পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেরাজ উদ্দিন মিরাজ বলেন, গোলাপ নগরখ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে শতাধিক বাগানে এলাকার বিপুল পরিমাণ বেকার নারী-পুরুষ এখানে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এখানে গরীব মানুষের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির যুগ হলেও কাঁচা ফুলের চাহিদা আগের মতোই আছে। তাই শতাধিক বাগানে উৎপাদিত ফুল বিক্রিতে চাষীদের কোনো বেগ পেতে হয় না। কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া বাগানের অবস্থান হওয়ায় সকালে বাগান থেকে ফুল তোলার পর বিকালের মধ্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রামের পাইকাররা সরাসরি এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
ফুল চাষিরা জানান, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকায় ভালোবাসা দিবসে প্রতি পিস্ গোলাপ মানভেদে পাইকারি আট থেকে দশ টাকা ও রকমারি রঙয়ের গ্লাডিওলাস ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তুলনামূলক দাম ভালো পাওয়ায় গতকাল অনেকটা খুশি মনে চাষি, ফুল কাটায় নিয়োজিত চাষি ও নারী-পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করছেন।
বরইতলী ফুল বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, এবছরের প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় ফুল চাষে সুদিন ফিরে এসেছে বলে মনে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের পরিস্থিতি শান্তিময় অবস্থা বিরাজমান হওয়ায় এখানকার চাষীরা নির্ভয়ে
ফুলচাষে নেমেছেন।
তাই আশা করছি, এবারের ভালোবাসা দিবসে গোলাপ ও গ্লাডিওলাসসহ রকমারি ফুল বিক্রি করে চাষীরা ভালো লাভবান হচ্ছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিম হোসেন বলেন, বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নে চলতি বছর ৬৬ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ২৮ হেক্টরে গস্নাউডিলাস ও আরও ১৬ হেক্টরসহ মোট ১১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ করছেন পাঁচ শতাধিক চাষি। উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবারের ভালোবাসা দিবসসহ সবকটি দিবসে ফুল বিক্রিও ভালো হবে। এতে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হবেন চাষিরা।
চকো/জে







