কক্সবাজারের পেকুয়ায় একজন বিএনপি নেতাকে কাউন্সিলর করতে আপনাদের সেই কি তোড়জোড়। তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে আপনারা একটা সময় ব্যর্থ হলেন। এরপর বেছে নিলেন কাউন্সিলের দিনটিকে। সেই দিন সুকৌশলে আপনারা তাকে (কাউন্সিলর না হয়েও) সভাপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন।
কাউন্সিলের ২-৩ দিন আগে থেকে আপনি বা আপনারা টাকা দিয়ে আমার গ্রামের সহজ-সরল কাউন্সিলরদের কিনে একজন বিএনপি নেতার হাতে তুলে দিলেন। একপর্যায়ে তাকে সভাপতিও নির্বাচিত করে নিলেন। আমেরিকা থেকে তাঁর ভাইয়ের পাঠানো ৫০ লাখ টাকা শেখ হাসিনার মাথা বিক্রি করে দুদিনের দৌঁড়াদৌঁড়িতে জায়েজ করে নিলেন!
কিন্তু আপনারা জানেন কি, তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে আপনাদের মতো পেটুয়া, খাদক, নির্লজ্জ নেতাদের কোনো মূল্য নেই। তাঁরা অবৈধ টাকায় আপনাদের মতো জিহ্বা চাটতে চাটতে ‘জি আব্বা, জি আব্বা’ করেন না। তাঁরা হাইব্রীডদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করে। তাঁদের লড়াইয়ে আপনারা বারবার পরাজিত হন, সেই দিনও পরাজিত হলেন। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ভাইয়ের নির্দেশে কমিটি বাতিল করতে বাধ্য হলেন। এই যে কমিটি বাতিল করা হলো সেটা কি আপনাদের ‘টাকায় মোড়ানো মোটা চামড়ার গালে’ চপেটাঘাত নয়!
আজ উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। এই সভায় আপনারা বাতিলকৃত কমিটি ‘বহাল আছে’ বলে ঘোষণা দিবেন আর তৃণমূল আওয়ামী লীগ মেনে নিবে-এমনটি যদি মনে করে থাকেন তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বসবাস করেন। বিএনপি নেতার টাকা আপনারা হজম করেছেন, তৃণমূল নয়। বিএনপি নেতার টাকায় কে গাড়ি কিনেছেন, কে জমি কিনেছেন আর কে ব্যাংকের একাউন্ট ভর্তি করেছেন সবই নখে দর্পনে। এসব জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বাধ্য করবেন না।
আওয়ামী লীগ ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায়। নিজের আখের গোছানো ছাড়া আপনারা আর কি কি করেছেন বলতে পারবেন? তবে আমরা বলতে পারি। আপনারা দল ও নেত্রীকে বিক্রি করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সুবিধা দিয়েছেন। আপনাদের বেডরুমে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের আনাগোনা। আপনাদের বউ-বাচ্চাদের কাছে ভিন্ন দলের ওইসব নেতারাই অতি আপনজন। আপনাদের এসব বেচা-বিক্রিতে যখন তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বাধা দেন তখন আপনারা তাঁদের জেলে পুরে দেন। মামলা, হামলা করে হয়রানির ওপর রাখেন। আপনাদের সর্বশেষ শিকার ছিলেন উজানটিয়া আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জিয়াবুল হক জিকু। এভাবেই আপনারা ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নিষ্পেষিত-নির্যাতিত করেন।
আপনাদের কথা ভাবতেই লজ্জা করে। খাল দখলে আপনাদের হাত, পাহাড় কাটায় নিজেরা পাহারা দেন, অন্যের দোকান-পাট, জায়গা-জমি দখল হয় আপনাদের ছত্রচ্ছায়ায়। কারণ উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন সেসব তো আপনাদের হাতের মুঠোয়। তৃণমূল আওয়ামী লীগের একজন কর্মী আপনার কাছে গেলে পাত্তা দেন না। ঠিকই ওই কর্মীর সামনে বিএনপি ও জামাত নেতারা শুধুমাত্র টাকার জোরে আপনার বেডরুমে ঢুকে যায়। বিশ্বাস করেন, এসব দেখে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়।
যাই হোক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দোহাই দিয়ে বিএনপি নেতাকে সভাপতি পদে বসানোর মিশন থেকে সরে আসুন। যত তাড়াতাড়িই সরে আসবেন ততই আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করি। তবে একটা পরামর্শ নিতে পারেন, ওই বিএনপি নেতাকে সরাসরি সভাপতি না বানিয়ে সদস্য হয়ে ৫-১০ বছর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী ‘শুক্কুর’দের পেছনে সময় দিতে বলেন। নিশ্চয় জানেন যে, শেখ হাসিনার কাছে হাইব্রীডদের চেয়ে শুক্কুরদের মূল্যায়ন বেশি। সুতরাং সাধু সাবধান।
০৭ জুলাই ২০২২ ইংরেজি
পেকুয়া, কক্সবাজার।







