লামা রাবার বাগান ইন্ডাস্ট্রির বর্বরতা—-
জোহান,ম্রো জনগোষ্ঠীর একজন HSC পরীক্ষার্থী।বাংলা জানা হাতেগোনাদের একজন।
তার বর্ণনা শুনলে যেকোন হৃদয়বান মানুষের কষ্ট লাগবার কথা।
গত কিছুদিন ধরে লামার সরই বাসী আর কথিত লামা রাবারবাগান পরস্পরবিরোধী অবস্থানে।ইতিমধ্যে রাবার বাগানের লিজ বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ গেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে।তারপর ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে হামলা মামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ম্রো জনগোষ্ঠীর একমাত্র পানীয় জলের উৎস তে বিষ ঢেলে পানের অযোগ্য করতে হাত কাপেনি এই ব্যবসায়ী গ্রুপের। তারা এত বেপরোয়া হবার সাহস পায় কেমনে? পেছনের শক্তি কারা।
আমরা জেনেছি, প্রশাসনের একটা অংশ ম্রো এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীকে ডেকে কয়েকবার হুমকি দিয়ে রাবার বাগানের লিজ মেনে বসতভিটা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে। অথচ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো সুপারিশ তারা হিসেবে ও নিল না। সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত কি হয় তার তোয়াক্কা ও করছে না।
যারা পানীয় জলের উৎস ধ্বংস করতে পারে তাদের কাছে পাহাড়ের কোন সম্পদ ই নিরাপদ নয়।যে অভিযোগ স্থানীয়রা করছে – ঝিরি তে বিষ ঢেলে পানের অযোগ্য করা, মাছ কাঁকড়া নিধন করা এ সবের দায় যৌক্তিক কারণেই রাবার বাগানের কতৃপক্ষের। কারণ তারা দীর্ঘদিন হুমকি দিয়ে আসছে। সংগত কারণেই এটা সেই হুমকির ই অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও তাদের কে দায়ী করছে। কাজেই যারা পানীয় জলের উৎস ধ্বংস করেছে তাদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে পাহাড়ে বসবাস করার শেষ ভরসাটুকু ও হারিয়ে যাবে।
তাতে করে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অহংকার, আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে এবং আমরা এটা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।
প্রয়োজনে এই রাবার বাগান ইন্ডাস্ট্রির প্রকৃত মালিকানা খোঁজে দেখতে হবে। বিচার বিভাগীয় কিম্বা সংসদীয় তদন্তের ব্যবস্থা ও করা হোক।
তাহলে আমরা প্রকৃত চিত্র দেখতে পাব।
উচ্চ আদালত ও চাইলে এতদসংক্রান্ত কাগজপত্র তলব করে ম্রো জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পারে।
আপাতত এইটুকু ভরসায় আশাবাদী হতে চাই।
এই বর্বরোচিত কান্ডের অবসান হোক…
শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন নাগরিকদের দৃষ্টি জাগ্রত হোক।







