দীর্ঘ সাত বছর পর ১৩ ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে শহর জুড়ে চলছে সাজ-সাজ রব। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, তোরন এসবে পর্যটন শহর পেয়েছে এক নতুন রুপ। পর্যটন শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে, বিশেষ করে সমাবেশ স্থানের আশ-পাশ থেকে শুরু করে প্রধান সড়কে যেখানে নেতাদের চোখ পড়তে পারে এমন সবখানেই লাগানো হয়েছে বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, এমপি। সম্মেলন উদ্বোধন ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। প্ৰধান প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি। আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন, এড. সিরাজুল মোস্তফা, সুজিত রায় নন্দি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, আমিনুল ইসলাম। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং সঞ্চালনায় থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান।
বর্তমানে সকল জল্পনা-কল্পনার পেছনে ফেলে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচিত হবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে প্রায় এক ডজন চেনা মুখ। একাধিক প্যানেলও ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়। কারা হচ্ছেন আগামীর কান্ডারী এমন আলোচনা জেলার সর্বত্র। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই হবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি। কাউন্সিলকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন সিআইপি, বর্তমান সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক সাংসদ মোস্তাক আহমদ চৌধুরী ও সংসদ সদস্য জাফর আলম এমএ।
এছাড়াও, সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন-সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশেক উল্লাহ রফিক ও আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. রণজিত দাশ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাশেদুল হক রাশেদ, ইতোপূর্বে নৌকা মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম, জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু তালেব ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম মাদু। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড শহরের অলিতে-গলিতে শোভা পাচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ এখন বিভিন্নভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের অনুকুলে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। দলের একটি পক্ষ যারা মিছিল মিটিং এ ব্যস্ত থাকে, তারা দলের এই গতিশীলতা ধরে রাখতে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমানকে আবার সাধারণ সম্পাদক অথবা সভাপতি হিসেবে দেখতে চায়। কেউ কেউ আবার দলের নেতৃত্বের পরিবর্তন আশা করেন। তবে দলে প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে ক্লিন ইমেজের সৎ, ত্যাগী ও দক্ষ নেতৃত্ব চায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে তৃণমূলকে সুসংগঠিত করে কাজ করলেই কেবল পরাজয় ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এড. সিরাজুল মোস্তফাকে সভাপতি ও মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি কেন্দ্র থেকে অনুমোদন লাভ করে সম্মেলনের আট মাস পর একই বছর ১৩ অক্টোবর । পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর সভাপতি এড. সিরাজুল মোস্তফাকে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক করা হয়। জেলা কমিটির সহ-সভাপতি এড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। সে থেকে বর্তমান পর্যন্ত তিনি সুনামের সাথে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এইবারের জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ৩৫১ জন কাউন্সিলর রয়েছে। তবে রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন না হওয়ায় সেখানে কাউন্সিলর তালিকা চুড়ান্ত হয়নি।







