কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নে রাতের অন্ধকারে ফরিদুল আলম নামের এক ব্যক্তি মালিকানাধীন ফলজ বাগানের বেসুমার চারা গাছ কেটে সাবাড়, ঘেরাবেড়া ও টং ঘর ভাংচুর করেছে দুর্বত্তরা। শুক্রবার রাতের যে কোন সময় ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের তমতলা এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযোগ পেয়ে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে থানায় জিডি রুজু করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে দু’পক্ষের জমি মালিকানা নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে ওই বাগানে গেলে দেখা যায় পুরো ১ কানি জমিতে মাত্র কটি ছোট আমের চারা কাটা হয়নি। বাকি গাছগুলি সব কেটে ফেলে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। একই সাথে কলা ও অনারসের চারা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পুর্ব নয়াপাড়া থমতলায় দূর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটালেও শনিবার সকালে থানায় জিডি দায়ের করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে স্থানীয়রা বলছেন বিগত ক’বছর ধরে ওই এলাকায় বেশ ক’জনের বাগান এভাবেই রাতের আধাঁরে কেটে সাবাড় করে দখল করে নেয় প্রভাবশালীরা।
ভুুক্তভোগি উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের থমতলা গ্রামের মৃত ছাবের আহমদের পুত্র ফরিদুল আলম জানান, বিগত ৫ বছর আগে প্রায় ১ কানি জমিতে আম, অানারস জাতের প্রায় কয়েক শতাধিক চারা লাগান তিনি। গাছগুলিতে আসন্ন মৌসুমে মুকুল আসার উপযুক্ত হয়ে গেছে। এমন সময়ে গত শুক্রবার রাতের কোন এক সময়ে ওই দূর্বৃত্তরা বাগানে ঢুকে সমুদয় গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আম চারা গাছের সাথে ওই ব্যক্তিদের কি শত্রুতা তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। আম গাছ লাগানোর আগে একই জমিতে তিনি আনারসের চাষ করেন। জমির ৫ শতাধিক আনারস চারাও একইভাবে কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা। কিন্তু আমের মত আনারসেরও একই পরিনতি হল। ফলজ চাষ করতে যেয়ে তিনি প্রায় ২লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন বলে জানান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই এলাকার জসিম-দেলোয়ারের নেতৃত্বে বাগানের চারা গাছ কেটে ঘেরাবেড়া ও টং ঘর ভাংচুর করেছে। তাদের বাঁধা দিতে চাইলে উল্টো তারা জমিটি অানোয়ার হোসেনের জানিয়ে তার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন বলে দাবী করেন এবং ফরিদকে বেশি বাড়াবাড়ি করলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে খুটাখালী বাজারে যেতে মানা করেন। পরে শনিবার এ বিষয়ে তিনি চকরিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জসিম উদ্দীন বলেন, চারা গাছ কাটাতো দুরের কথা, আমি তার বাগানে যাইনি, তার সাথে কোন কথাও হয়নি। তবে আমি একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি হিসাবে যতটুকু জানতে পেরেছি ঐ জমির মালিক ২০০৪-০৫ সালের সামাজিক বাগানের অংশীদার সবুজপাহাড় গ্রামের মৃত কবির হোসেনের পুত্র আনোয়ার হোসেন। তার পাশে আমাদেরও বাগানের জমি রয়েছে। ফরিদ কিভাবে জমির মালিক হলো জানিনা। তাছাড়া সামাজিক বনায়নের জমিতে ফলজ চারা বাগান করার উদ্দেশ্য কি তা বনবিভাগ ভাল বলতে পারবে।
অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ফুটবলার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ফরিদ এলাকার চিহ্নিত দখলবাজ। প্রতিরাতে গাছ-মাটি পাচার করে চলে তার জীবন সংসার। প্রতিনিয়ত সেই বনের জমি দখলের সাথে জড়িত। এলাকায় তার একটি নিজস্ব বাহিনী রয়েছে। বিচারের নামে সে শালিসী বাণিজ্য করে সাধারন মানুষকে হয়রানি করে চলছে।
জানতে চাইলে ঐ জমির অংশীদার আনোয়ার হোসেন বলেন, মুলত ফরিদ গং রাতের অন্ধকারে আমার বাগানের চারা গাছ কেটে উল্টো আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। ফরিদের কাছে ঐ জমির কোন কাগজপত্র নেই দাবী করে তিনি জমির অংশীদার নিয়ে বিচার শালিসি বৈঠক চলমান বলে জানান।
খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার জিশান শাহরিয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এসময় চকরিয়া থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। তিনি এমনতর ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন চারা গাছ তো কারো শক্রু হতে পারেনা। বিরোধ থাকলে উভয়ে বৈঠকের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসায় গিয়ে নিষ্পত্তি করা যেত।
জানতে চাইলে কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফুলছড়ি বনবিট কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল বলেন, বাগান যেহেতু নেই, তাদের অংশীদারীও থাকতে পারেনা। মুলত তারা ফরিদ-আনোয়ার দু’জনই জবরদখলকারী। দু’জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। তদন্ত চলছে। তদন্ত করে বিষয়টির ব্যবস্থা নেয়া হবে।







