সীমান্ত নিরাপত্তায় নির্মিত বান্দরবানের থানচিতে সীমান্ত সড়ক পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি রবিবার প্রায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ থানচি লিকরে সড়কটির বাকলাই পাড়া অংশে পরিদর্শনে যান।
তিনি সড়কটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং এর অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।
এ সময় তার সাথে সেনাবাহিনীর চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ জিয়াউল হক, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাসুদুর রহমান, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অতিরিক্ত পরিচালক ও সীমান্ত সড়কের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল এ এন এম ফয়েজুর রহমান, বিজিবির বান্দরবানের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ শাহরিয়ার ইকবাল, ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ও সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মেজর সাঈদ মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সীমান্ত সড়ক রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবন পার্বত্য জেলা নির্মাণ (১ম পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১৬, ২০ এবং এডহক ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সড়ক প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুন ২০১৮ হতে জুন ২০২৪ পর্যন্ত। প্রকল্পটি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় চলমান রয়েছে। যার সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য ১০৩৬ কিঃ মিঃ।
প্রকল্পটি ২টি পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর মধ্যে ১ম পর্যায়ের ৩১৭ কিঃ মিঃ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৭টি সেগমেন্টে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ১ম পর্যায় শেষে ২য় পর্যায় সম্পন্ন করা হবে।
প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে পার্বত্য জেলা সমূহের সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন, সীমান্তের দুই পাশের অবৈধ অস্ত্র, মাদক, মানব পাচার ইত্যাদি বন্ধ, পাশ্ববর্তী দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার, সীমান্ত এলাকার কৃষি পণ্য দেশের মূল ভূখন্ডে পরিবহনের মাধ্যমে অত্র এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সীমান্ত এলাকার কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, পার্বত্য জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন, দেশী ও বিদেশী পর্যটকদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতি, পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য সুযোগ বৃদ্ধিসহ পার্বত্য জেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় সরকারী নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
পাশাপাশি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার মধ্যে আন্তঃ আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন হবে যা পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রম ও শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।







