# চলতি বছরে ১৮ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনে দেশের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
# ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন।
সাগর বেষ্টিত জেলা কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ঈদগাঁ উপজেলার তুলনায় দেশের সবচেয়ে বেশি লবণ উৎপাদিত হয় বঙ্গোপসাগরের বুকে থাকা দ্বীপ মহেশখালী উপজেলায়। এ উপজেলায় জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি মানুষ লবণ শিল্পের নির্ভর করে সংসার চালায়।
জানা যায়, প্রতিবছর লবণ মৌসুমে দুইতিন কানি জমি বর্গা, পলিথিন ও শ্রমিকসহ খরচ হয় এক লাখ ত্রিশ হাজারেরও বেশি টাকা। লবণ মৌসুমের পূর্বে জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদের কাজ শুরু করেন এই অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকেরা।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া অনেকটা অনুকূলে থাকায় দেশের সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদিত হয়েছে। আবহাওয়া আরো কিছুদিন অনুকূলে থাকলে উৎপাদনের মাত্রা আরো ছাড়িয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সংস্থা (বিসিক) দৈনিক চকোরীকে জানায়, লবণ উৎপাদনে কক্সবাজারের পরে রয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা। কক্সবাজারের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশের বাকি লবণ উৎপাদিত হয় বাঁশখালীতে। দেশে ২০২১-২২ অর্থবছরে লবণের চাহিদা ২৩ দশমিক ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। এর আগে গত এক দশকে দেশে লবণের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সর্বোচ্চ লবণ উৎপাদন হয়েছিল ১৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন।
বাংলাদেশ সল্ট ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এইচএম শহিদুল্লাহ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় যতটা বেড়েছে, সে তুলনায় আমরা দাম পাচ্ছি না। এখন প্রতি মণ লবণ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর ছিল ২০০ টাকা। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না হওয়ায় প্রান্তিক চাষীরা লবণ বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে।
বিসিক চেয়ারম্যান মাহবুবর রহমান বলেন, দেশে এখন লবণের বার্ষিক চাহিদা ২৩ লাখ মেট্রিক টন। এবার লবণ উৎপাদনে রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় আগামী অর্থবছরে লবণ আমদানির প্রয়োজন পড়বে না। এরপরও ছোটখাটো সিন্ডিকেট করে যারা অসাধু ব্যবসায় জড়িত তাদের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
মহেশখালী অাঞ্চলিক এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, দেশের লবণ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গুলো বিদেশ থেকে লবণ আমদানি না করলে, দেশীয় শিল্পের জন্য ভালো হবে। আমদানি করলে গরীব-অসহায়েরা পূর্বের ন্যায় প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
দৈনিক চকোরীর সাথে কথা বলেন কালারমারছড়া বাজারের জসিম উদ্দিন সওদাগর নামের এক লবণ ব্যবসায়ী। তিনি জানায়, চলতি অর্থ বছরে প্রান্তিক লবণ চাষীরা উৎপাদন নিয়ে অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেকটা সন্তুষ্ট। গত বছর যে লবণ ২০০-২২০ টাকা ছিল, এ বছর তা প্রতি মণ ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিসপাড়া গ্রামের লবণ চাষী শামসুল আলম পিংকী জানান, প্রচুর তাপমাত্রা সহ্য করে লবণ উৎপাদন করলেও আমাদের দুঃখ নেই। গতবারের চেয়ে এবার একই জমিতে ১০/১৫ মণ লবণ উৎপাদন বেশি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন শুরু হয় ১৯৬০ সালে। কক্সবাজার ও বাঁশখালীতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে লবণ চাষের জমি বেড়েছে সাড়ে ৮ হাজার একর এবং লবণ চাষির সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৯ হাজার জনের বেশি।







