কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লি কবির আহমদ (৬৫) কে শয়তানের ভাই বলে ফতোয়া দিয়ে সওদাগর হাটে (বারবাকিয়া বাজার) জনসম্মুখে মারধর করলেন একই মসজিদের ইমাম মৌলানা আজিম উদ্দিন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে পুলিশ পাহারায় জুমার নামাজ আদায় করতে হয়েছে মুসল্লী ও এলাকাবাসীকে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় মুসুল্লিরা দ্রুততম সময়ে ইমামের অপসারণ দাবী করেছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ আরো বলেন, মসজিদের স্বঘোষিত সভাপতি আবু তাহের এক ওয়াক্ত নামাজ পড়েন না।
স্থানীয় মুসুল্লি মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আবু তাহের নিজেকে স্বঘোষিত সভাপতি হিসাবে দাবী করে ঘাপটি মেরে বসে ইমামের সহযোগিতায় মসজিদের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় মুসুল্লি কবির আহমদ সওদাগর মসজিদের অর্জিত তহবিলের হিসাব চাওয়ায় স্বঘোষিত সভাপতি আবু তাহেরের নির্দেশে সওদাগর হাটে জনসম্মূখে শয়তান আখ্যয়িত করে ফতোয়া দিয়ে পেটালেন দূর্নীতিবাজ ইমাম আজিম উদ্দিন।
তার এমন কর্মকান্ডে সমাজে বিশৃংখলার সৃষ্টি হয়েছে। কবির হোছনকে ইমাম কর্তৃক মারধরের বিষয় নিয়ে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পরে নিষ্পত্তির জন্য বসার কথা থাকলেও মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের মসজিদে না এসে মারামারির আশংকা জানিয়ে পুলিশে খবর দেন এবং ইমামকে দ্রুত চলে যেতে মুটোফোনে নির্দেশ দিলেন বলে জানা যায়।
মসজিদের জমিদাতা মুসল্লি ফিরোজ আহম্মদ(৭০) অভিযোগ করে বলেন,‘সমাজের একজন বাসিন্দা হিসাবে এ মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি আমি। দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে ইমাম আজিম উদ্দিন এ মসজিদের ইমাম হিসাবে আছেন। এ ইমাম বেনামাজী সভাপতি আবু তাহের সহযোগিতায় নামাজের সময়ে মসজিদে আসে না। অনেক সময় তার জন্য অপেক্ষা করতে করতে নিজেরা ইমামতি করে নামাজ আদায় করতে হয়। সময়মত না আসার কারণ জানতে চাইলে জবাবে বলে থাকেন সভাপতি আবু তাহের আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। তাই আমার ইচ্ছামত আসব আর নামজ পড়াব। কারো কথা শোনার সময় আমার নাই। ইমাম আজিম উদ্দিন দূর্নীতি পরায়ণ। মসজিদের নামে আসা বিভিন্ন অনুদান সভাপতির যোগসাজসে আত্মসাৎ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে ফতোয়া দিয়ে সমাজে ঝগড়া সৃষ্টি করে দিচ্ছে। আমরা এ স্বেচ্ছাচারী ইমামের প্রত্যাহার চাই।’
ফতোয়ার শিকার কবির হোছন প্রকাশ কবির সওদাগর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আবু তাহের মসজিদের সভাপতি দাবী করে মসজিদের সংগৃহিত অর্থ লোপাট করে চলেছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার এমনকি মাঝে মধ্যে জুমার নামাজ ছাড়া এক ওয়াক্ত নামাজও পড়েন না মসজিদে। তার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে সে মসজিদের নিয়মিত মুসুল্লি ও আমাকে ইমাম আজিমের মাধ্যমে ফতোয়া জারী করে প্রকাশ্যে মারধর করে।
সাবেক মেম্বার ইসমাঈল ও মুসল্লি আলী আবছার বলেন, আমরা এ দূর্নীতিবাজ সভাপতি ও স্বেচ্ছাচারী ফতোয়াবাজ মৌলানা আজিম উদ্দিনের অপসারণ দাবী করছি। অন্যথায় যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য স্বঘোষিত সভাপতি আবু তাহের ও মৌলানা আজিম উদ্দিন দায়ী থাকবে।মসজিদের টাকা আত্মসাত করে এধরণের বেপরোয়া আচরণকারী সভাপতি ও ইমাম দেখিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘কবির হোছন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেও সে শয়তান। তবে ইমাম আজিম উদ্দিন বাজারে শত শত মানুষের সামনে তাকে মারধর করা অন্যায় হয়েছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে কিভাবে সভাপতি পদ আঁকড়ে আছেন, জানতে চাইলে বলেন, সময়ের অভাবে সভা (মিটিং) আহবান করতে পারিনি বিধায় আমি এখনো সভাপতি পদে আছি।’
মসজিদ স্থলে আসা উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এ এস আই) রূপম বলেন, ‘মসজিদের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হতে পারে এ ধরণের আশংকা জানিয়ে সভাপতি থানায় সংবাদ দেয়ায় ওসি স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন। আমি সবাইকে সংযত থাকার এবং কোন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে এসেছি।’







