মহেশখালী পৌরসভা, মাতারবাড়ী, হোয়ানক, কুতুবজোম ও সর্বশেষ ছোট মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই গত ২৫ এপ্রিল ঘোষণা করা হলো মহেশখালী উপজেলার আরো দুটি ইউনিয়ন কালারমারছড়া ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ভোট গ্রহণের তারিখ। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন এ দুই ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষণা পাওয়ার পর থেকেই যে যার মতন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীতার জানান দিতে শুরু করেছে। প্রার্থী হবে কিন্তু নিজে ঘোষণা দেয়ার আগেই তাদের কর্মী-সমর্থকদের ঘোষণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এরই মধ্যে দুই ইউনিয়ন জুড়ে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া।
এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী না থাকার সম্ভাবনা বিবেচনা করে আ’লীগ থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অস্থির হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তবে গতবারের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও স্থানীয় জেলা পর্যায়ের নেতাদের সিদ্ধান্ত পেলে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। এ বিষয়ে অতি শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে বলে জানান।
দুইটি ইউনিয়নে অন্যান্য বারের চেয়ে এবারে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তৃণমূলের ভাবনা ও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন- আ’লীগ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ, সরওয়ার আজিম, সেলিম চৌধুরী, মাষ্টার রুহুল আমিন, সাংবাদিক ছৈয়দুল কাদের, হাসান আরিফ, মোহাম্মদ জাকরিয়া, আখতারুজ্জামান বাবু, ফজলে আজিম মো: সিগবাতুল্লাহ, বিএনপি থেকে আলহাজ্ব এখলাছুর রহমান ও জামায়াত থেকে আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা ওসমান গণি।
অপরদিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন- বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল, আ’লীগ থেকে মোস্তফা আনোয়ার চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নিশান, সিরাজ মিয়া বাঁশি, মোস্তাক তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন থেকে বেলাল হোসাইন।
আ’লীগের একাধিক প্রার্থী হলে দলীয় প্রতীকের জন্য চলবে তুমুল লড়াই। আ’লীগের টিকেট পেলেই পাস করা যাবে এ বিশ্বাস থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন অনেকেই এটি এক ধরনের নিশ্চিত। কেউ কেউ ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফটোসেশন, ঈদ শুভেচ্ছা ও বিজ্ঞপ্তি দিয়েই তাদের নির্বাচনী প্রার্থীতা ঘোষণা করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা না করায় গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে নারাজ। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা না করলেও গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন মহেশখালী উপজেলা আ’লীগের সিনিয়র সদস্য সরওয়ার আজিম। তিনি বলেন- নির্বাচনে অনিচ্ছুক স্বত্ত্বেও তৃণমূল ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধে ইলেকশন করতে হচ্ছে। যদি নির্বাচনে কামিয়াব হই তাহলে ইউনিয়নের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবো এবং গরিব অসহায়রা সবচেয়ে বেশি সুযোগ পাবে। ইনশাআল্লাহ, এলাকার অসহায়েরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হবেনা।
সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, এবারে দলীয় মনোনয়ন না পেলেও প্রয়োজনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন।
কালারমারছড়া ও বড় মহেশখালী ইউনিয়ন তৃণমূলের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এ দুই ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে অনেকটাই দৃশ্যমান। চলতি রমজান ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন ইফতার ও দোয়া অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন। সর্বোপরি ঊর্ধ্বতন নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে নিজের পক্ষে দলীয় নমিনেশন নেয়ার আকাক্সক্ষায় ব্যস্ত রয়েছেন।
নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কালারমারছড়ার বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ ও বড় মহেশখালর বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল। তবে এনায়েত উল্লাহ বাবুল জানান, নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণার জন্য আরো কয়েকদিন সময় প্রয়োজন।
এ বিষয়ে তারেক বিন ওসমান শরীফ বলেন, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এলাকার মানুষ চাইলে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা ঘোষণা করবো। তিনি বলেন, এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, রাস্তাঘাটের অবিস্মরণীয় উন্নয়ন ও দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বসহ জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে ইউনিয়নটিকে উপজেলার একমাত্র মডেল ইউনিয়নে উন্নীত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিগত পাঁচ বছরে যে পরিমাণ কাজ এ ইউনিয়নে হয়েছে তা বাংলাদেশের কোন ইউনিয়নেও হয়নি বলে জানান তিনি।
অপর দিকে ভোটে দাঁড়াবেন এমন ধর্নাঢ্য প্রভাবশালী প্রার্থীরা ইউনিয়নের গরীব অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই আ’লীগের নেতা দাবি করে ক্ষমতার দোহাই দিয়ে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশজুড়ে শেষধাপের ১৩৫ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুন। এছাড়াও এদিন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও দেশের ৬টি পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এসব নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুন।
ইসি অফিস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সিটি, ছয় পৌরসভা ও ১৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর আগে মহেশখালীতে প্রথম ইভিএমে ভোট গ্রহণ হয় পৌরসভা নির্বাচনে।







