মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব সময়ে গেল দুইবছর দেশি-বিদেশি পর্যটক-দর্শনার্থীরা ভ্রমণ করতে পারেননি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে।
অবশ্য করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার পর দেশের পর্যটন এলাকাগুলো ফের উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও গেল বর্ষা মৌসুমে এই পার্কে তেমন আগমন ঘটেনি পর্যটক-দর্শনার্থীদের।
তবে চলতি শীত মৌসুম আসতেই ইতোমধ্যে দর্শনার্থী- পর্যটকের পদচারণ শুরু হয়ে গেছে। পার্ক এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট শতবর্ষী মাদার ট্রি (গর্জন) দেখে বিমোহিত হচ্ছেন পর্যটকরা। একই সঙ্গে মুগ্ধ হচ্ছেন পার্কে বিভিন্ন বেষ্টনীতে থাকা দেশি-বিদেশি হরেক প্রজাতির বন্য-প্রাণী ও পশু-পাখি দেখে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটক-দর্শনার্থীদের বেশি আনন্দ দিচ্ছে পার্কের তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা বেষ্টনীতে থাকা আফ্রিকান দুই জোড়া জেব্রা।
এসব জেব্রা বিদেশ থেকে অবৈধভাবে দেশে আনার পর সীমান্ত জেলা যশোরের শার্শা থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্ধার করে প্রায় চার বছর আগে। এরপর গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে প্রেরণ করা হলেও তৎকালীন প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে সেগুলোকে প্রেরণ করা হয় চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। এসব জেব্রাই এখন দেশি-বিদেশিদের বেশ আনন্দ দিচ্ছে।
সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, জেব্রাগুলো ছাড়াও পার্কে রয়েছে আফ্রিকান ওয়াইল্ডবিস্ট, কয়েক প্রজাতির হরিণ, বাঘ, সিংহ, হাজারো বানর, জলহস্তী, অজগর, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখি। অনেক প্রাণীর প্রজননও হয়েছে। তা ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশে সাফারি পার্কের যে থিম রয়েছে, বর্তমানে সেই থিমে পার্ককে সাজানোর কাজ চলমান। অর্থাৎ বন্য প্রাণীরা থাকবে উন্মুক্ত। আর পর্যটক-দর্শনার্থীরা দেখবেন নির্দিষ্ট বেষ্টনীর ভেতর থেকে।
বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পার্কের তিন একর জায়গায় গড়ে তোলা বেষ্টনীতে জেব্রাগুলো আসার পর থেকে তারা যেন আদর্শিক আবাসস্থল খুঁজে পেয়েছে। সেখানে রয়েছে বিভিন্ন জাতের প্রচুর ঘাস, লতাগুল্মের সমাহার। বিস্তীর্ণ এই বেষ্টনীতে ঢুকেই এসব জেব্রা ঘাস খাওয়া শুরু করে। এই দৃশ্য দেখে পার্কের কর্মকর্তারাও বলেন, এটিই জেব্রা আদর্শ আবাসস্থল।
পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পার্কের জেব্রাগুলো খুবই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে পার্কের সবুজাভ পরিবেশে। যখন এসব জেব্রা পার্কে আনা হয়, তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। বর্তমানে তারা প্রাপ্তবয়স্ক এবং একটি জেব্রার প্রজননও হয়েছে। জেব্রাগুলোর মধ্যে একটি বিপরীত লিঙ্গের। তাই এখানে যে আবাসস্থল তারা পেয়েছে, প্রজননের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
জেব্রাদের ওখানে ঢুঁ মেরে দেখা গেছে, এসব জেব্রা পার্কের নির্দিষ্ট বেষ্টনীতে অবমুক্ত করার পর প্রচুর পরিমাণ ঘাস পেয়েছে। এরপর তিন একরের এই বেষ্টনীর এদিক থেকে ওদিকে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে একটি জেব্রা হাঁটু পরিমাণ পানিতে নেমে পড়লে অন্য জেব্রাগুলো দলচ্যুত জেব্রাকে চিৎকার-চেঁচামেচি করে পাড়ে তুলে নিয়ে আসে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা এই দৃশ্য দেখেও বেশ উৎফুল্ল হন।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, সাফারি পার্কে বিদেশি বন্য প্রাণী না থাকলে সেই পার্ক পরিপূর্ণতা পায় না। আফ্রিকান প্রজাতির এসব জেব্রা একেবারেই শান্ত স্বভাবের। এরা তৃণভোজী বন্য প্রাণী। তাদের প্রধান খাবার হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস, ভুসি।
তিনি বলেন, করোনার দীর্ঘ সময়ে বন্ধ থাকার পর এবার শীত মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতিদিন প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক-দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে। আশা করি পর্যটক-দর্শনার্থীরা পার্ক ভ্রমনে এসে বিমোহিত হবেন।







