সুজনের সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান ও সাধারণ সম্পাদক ড.বদিউল আলম মজুমদার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আবারও দুষ্কৃতিকারীরা কুমিল্লা নগরীর একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ রেখে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে; এমনটি কোনো কোনো ঘটনায় প্রাণহানীরও খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা নাগরিক সংগঠন সুজন-এর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন, আমরা মনে করি, সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটাসহ স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যেই কুমিলায় পূজামন্ডপে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার মধ্য দিয়ে সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিও এ ঘটনার অন্যতম লক্ষ্য।
আমরা মনে করি, অন্ধকারের এই শক্তি সবসময় সমাজে ঘাপটি মেরে থাকে এবং যেকোনো অজুহাতেই এরা এদের ঘৃণ্য মানসিকতা নিয়ে উস্কানি সৃষ্টি করে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। অতীতে আমরা রামু, নাসিরনগর, সাথিঁয়া, গঙ্গাচড়া, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন রকম গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটাতে দেখেছি।
এখন পর্যন্ত অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ফলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে।
আমরা সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি কঠোর হস্তক্ষেপে এসকল অপতৎপরতা দমন করার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষদেরকে সদাসতর্ক থেকে এই অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়ানোর আহ্নবান জানাচ্ছি। কেননা একমাত্র সামাজিক প্রতিরোধই রুখতে পারে সকল অপতৎপরতা রুখে দিতে।







