ফুটবল এখনো তাবৎ দুনিয়ায় সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা।আর বিশ্বকাপ ফুটবল মানে বিশ্ব আসর এবং মহামিলন মেলা।চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে । ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা এর সামগ্রিক নিয়ন্ত্রক নির্দেশক ও আয়োজক।
এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১১ জুন মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে। সমাপনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২০ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১:০০ টায় আমেরিকার নিউইয়র্ক-নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।মোট ১০৪ টি ম্যাচ। গ্রুপ পর্বে ৭২ টি এবং নকআউট পর্বে ৩২ টির মধ্যে ৩১ টি ম্যাচ শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে।ইতোমধ্যে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে পরাজিত করে। ফ্রান্সের এমবাপ্পে এই ম্যাচে জোড়া গোলের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন।বাকি থাকে বহপ্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ শেষ হবে আজ রাতে।
৪৮ দেশের ৪৮ টিমের মধ্যে এই টুর্নামেন্ট চলছে এই আসরে।এর আগে এতো বেশি টীম অংশ নেয়নি। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে যাবে আজ রাতে বিশ্বকাপ।অনেক ঘটনাবহুল স্মৃতিবহুল এই টুর্নামেন্ট।
আশাকরি, আজকের আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের ম্যাচের মধ্যদিয়ে এর একটি সফল পরিসমাপ্তি হবে।
কোন দল শিরোপা হাতে জয়োল্লাসে মেতে ওঠবে কিংবা কোন কিংবদন্তি খেলোয়াড গোল্ডেন বুটের মালিক হবে, সেটি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।তবে এতোটুকু বলা যায়,মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই সমাপনী ম্যাচ হয়ে ওঠতে পারে এক অসাধারণ অপূর্ব মহারণ।
যেহেতু ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও স্পেন দু’দলই এখন ফর্মের তুঙ্গে।মেসি না ইয়ামেল,কার হাতে কাপ শোভা পাবে,সেটা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা ও প্রেডিকশন চলছে বিশ্বব্যাপী ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে।
একদিকে লাতিন আবেগ,অন্যদিকে ইউরোপীয় শৃঙ্খলা।একদিকে মুকুট রক্ষার যুদ্ধ, অন্যদিকে নতুন সাম্রাজ্য গড়ে ইতিহাস সৃষ্টির স্বপ্ন।
স্মর্তব্য,আর্জেন্টিনা মানে অবিশ্রান্ত শ্রম ও ঘাম,রক্ত আর শেষ মুহূর্তের অলৌকিকতা। এবং মহানায়ক লিওনেল মেসির অদ্ভুত প্রতিভা।তার সাথে আছে লাওতারো মার্তিনেজের মতো সহযোদ্ধারা । অন্যদিকে স্পেন মানে ফুটবলের এক অনন্য কারিশমা। ডিস্টেন্স কভারিং,পাসিং পজিশনিং এবং কাউন্টার প্রেসিংয়ে তো রীতিমতো ভয়ঙ্কর ওরা।স্পেন মানে এই আসরের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক ‘বিস্ময় বালক ‘ইয়মাল এবং সাথে আছে রদ্রির মতো অসাধারণ সহযোদ্ধা খেলোয়াড়েরা।
এবার একটু ফিরে দেখা যাক, আর্জেন্টিনা ও স্পেন এর আগে ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। ৬ টি করে জয় দুই দলের।১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের আসরে তারা শুধু একবার মুখোমুখি হয়েছিল।সেবার আর্জেন্টিনা জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়।আজও কি মেটলাইফে সেরকম কিছু হবে? মাত্র কয়েক ঘন্টায় তার চিত্রনাট্য ভেসে আসবে কোটি কোটি দর্শকের সামনে।
বলা যায়, সবকিছুর বিচারে কেউ কারো চেয়ে কম যায়না।আবার কেউ কাউকে ছেড়ে কথাও বলবে না এটাও সকলের জানা আছে ।ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে আজকের ফাইনাল ম্যাচ।
তবু ধারণা করি, অভিজ্ঞতা ও কৌশলে এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা একটু হলেও এগিয়ে স্পেনের চেয়ে। এরপরও যে কোনো দল ম্যাচ বের করে নিয়ে আসতে পারে।ধারণা করা যায়,পৃথিবীর তাবৎ ফুটবলপ্রেমীরা একটি দুর্দান্ত ও স্মরণীয় ম্যাচ উপভোগে করতে পারে আজ রাতে সরাসরি মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ও পর্দায় চোখরাখা কোটি কোটি তাবৎ দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমী দর্শক।শুভকামনা নিরন্তর।






