স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে এলেও বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় ছিল না কোনো স্বতন্ত্র কলেজ। পার্বত্য এই জনপদের শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে থেকে থেকে বঞ্চিতই ছিলেন। তবে সেই বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতে ২০২৩ সালে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন সমাজের উদ্যোগে কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের একজন নিরক্ষর, খেটে খাওয়া দিনমজুর—আনছার আলী।
নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন হয়েও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা নিশ্চিত করতে আনছার আলী নিজের ভোগ দখলীয় দুই একর জমি কলেজ নির্মাণের জন্য দান করেন। এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং পরবর্তীতে আরও কিছু দানবীর মানুষ কলেজ প্রতিষ্ঠায় জমি দিতে এগিয়ে আসেন। তবে আনছার আলীর দানের তাৎপর্য ও বিস্ময় তৈরি করে কারণ, তিনি ছিলেন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও শিক্ষাগতভাবে প্রান্তিক মানুষ।
এই জমির ওপরই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি পাঁচতলা ফাউন্ডেশনবিশিষ্ট আধুনিক একাডেমিক ভবন। জমিদানের ঠিক পাশেই এখনও দাঁড়িয়ে আছে আনছার আলীর দুই কক্ষবিশিষ্ট কাঁচাঘরটি—যা এই ত্যাগের জীবন্ত সাক্ষ্য হয়ে রয়ে গেছে।
আনছার আলীর এই মহান উদ্যোগের প্রতিদানস্বরূপ আলীকদম কলেজের সাংগঠনিক কমিটি তাঁর জন্য একটি নতুন তিন কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই ঘর নির্মাণের জন্য আনছার আলী ও তাঁর সহধর্মিণী নিজেরাই জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
ঘর নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে কলেজের সাংগঠনিক কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মমতাজ উদ্দিন আহমদ এবং সংগঠক জুলফিকার আলী ভূট্টো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং এটিই হবে আনছার আলীর প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রতীক।
মমতাজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আনছার আলীর এই জমিদান শুধু একটি কলেজের ভিত্তি নয়, এটি একটি শিক্ষিত সমাজের স্বপ্ন রচনা। আমরা চাচ্ছি তাঁর এই আত্মত্যাগের স্মৃতি অম্লান থাকুক এবং এই ঘর সেই স্মৃতির একটি ছায়া হয়ে থাকুক।”
আনছার আলীর জমিদান শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষা আন্দোলন নয়, গোটা বাংলাদেশের সামাজিক উদারতার ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রইবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







