বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও প্রাক্তণ যোগাযোগ প্রতি-মন্ত্রী সালাহ্ উদ্দিন আহমদ এর আগমন উপলক্ষ্যে বুধবার
২৮ আগষ্ট চকরিয়া সদর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সর্বস্তরের বিভিন্ন বয়সের মানুষের শ্লোগানে শ্লোগানে দিনভর মুখরিত থাকে চকরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা।
কেউ পায়ে হেঁটে, আবার কেউ কেউ সংঘবদ্ধ হয়ে পিকআপ ভাড়া করে গলা ফাঁটিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হয়। বেলা ১২ টার মধ্যে লোকে লোকারণ্য হয় চকরিয়া উপজেলা সদয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি বিহীন একতরফা নির্বাচনের পর সালাহ্উদ্দিন আহমদই দলের মূখপাত্র হিসেবে কাজ করেন এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁর আহ্বানে সেই সময় আন্দোলন চলছিল।
আন্দোলনের এক পর্যায়ে তাঁকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ঢাকাস্থ তাঁর এক বন্ধুর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর মাস দু’য়েক পরে তাঁকে পাওয়া যায় ভারতের মেঘালয়ে। সেখানে দীর্ঘ নয় বছরেরও অধিক সময় পর্যন্ত অবস্থানের পর বাংলাদেশের ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হলে তিনি এর কয়েকদিন পর বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
২৮ আগষ্ট তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আগমন উপলক্ষ্যে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে তাঁর সম্মানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

চকরিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এনামুল হক উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন। দীর্ঘ ৯ বছরের অধিক সময় পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিশাল সমাবেশে আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন- ‘আপনাদের ভালোবাসার কাছে আমি ঋণী। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন জালেম শাসক স্ব-সম্মানে বিদায় নিয়েছে এমন কোন নজির নেই এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও তাই হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ বাংলার মাটিতে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদ এবং ফ্যাসিবাদী চরিত্রের কবর রচিত হয়েছে। এটি সর্বস্তরের মজলুম মানুষের একটি ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি এ বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সকলকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।’
এ সভায় তাঁর স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. শামিম আরা স্বপ্না, উখিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী সহ কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ, চকরিয়া উপজেলা বিএনপি’র ফখরুদ্দিন ফরায়েজী, অধ্যক্ষ এস এম মঞ্জুর, সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী সাবু, মোবারক আলী সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কক্সবাজার বিমান বন্দরে তিনি অবতরণ করেন ২৮ আগষ্ট দুপুর ২ টার পরে। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল সহ জেলা বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
সকাল ১০ টা থেকেই চকরিয়া এবং পেকুয়ার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহন যোগে বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁকে বরণের জন্য কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে চকরিয়া আসার সময় রাস্তায় রাস্তায় সর্বস্তরের বিপুল জনতা তাঁকে অভিবাদন জানায়।







