আগামী ২১ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে চকরিয়ায় ভোটের মাঠে চেয়ারম্যান ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণা চলছে। শেষমুহুর্তে এসে চেয়ারম্যান পদে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পক্ষে বেশ জোরালো হচ্ছে মাঠের লড়াই। প্রতিদিন এই দুই প্রার্থী উপজেলার ১৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগে। সমানতালে চলছে নির্বাচনী পথসভা ও উঠান বৈঠক। দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়নে ও জনগণের মাঝে কাঙ্খিত সেবা করার নানান প্রতিশুতি।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই জনপ্রিয়তা বেড়ে চলছে চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদি তথা দোয়াত কলম প্রতীকের। অন্যদিকে তিনমাস আগে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের পরাজয়ের গ্লানি মুছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উজ্জীবিত করতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে চান অপর হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক এমপি আলহাজ্ব জাফর আলম।
জানা গেছে, অনুষ্ঠিতব্য এবারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠ আছেন এক সময়ের পৌর কাউন্সিলার থেকে উঠে এসে চকরিয়া জনপদের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ক্রীড়া সংগঠক ফজলুল করিম সাঈদী।
অপরদিকে গত সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক এর কাছে কক্সবাজার ১ আসনে হেরে গিয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দাপুটে রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব জাফর আলম।
তাঁরা ছাড়াও নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরও দুজন প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন জাফর ও সাঈদী। বেশিরভাগ ভোটারের দাবী, এই দুই হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য ২১ মে তারিখের নির্বাচন মুলত অস্তিত্বের লড়াই। কারণ যিনি নির্বাচনে হেরে যাবে, তার জন্য আগামী দিনের চকরিয়ার রাজনৈতি অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর জন্য চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন ইমেজ ও অস্তিত্বের লড়াই হিসাবে দেখছেন অনেকে।
জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন চারজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী (দোয়াত কলম), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি জাফর আলম (ঘোড়া), আবদুল্লাহ আল হাসান সাকিব (আনারস) ও বদিউল আলম (মোটর সাইকেল)।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টো-(বই), মহসিন বাবুল (টিউবওয়েল), তপন দাশ টিয়া পাখি, বেলাল উদ্দিন শান্ত (তালা), নুরুল আমিন (চশমা), মুবিনুল ইসলাম (উড়োজাহাজ)।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোটের মাঠে আছেন বর্তমান মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন হক জেসি চৌধুরী (কলস), সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়া বেগম শম্পা (ফুটবল) ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা পারভীন (হাঁস)।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চকরিয়া উপজেলা সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল কবির বলেন, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে ভোটের মাঠে বেশ আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি জাফর আলম ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী। মূলত স্থানীয় রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য সাবেক এমপি জাফর এবারের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তার পক্ষেও মাঠে বেশ লোকজন আছে। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীও চকরিয়ায় একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি পৌরসভার কমিশনার থেকে শুরু এখন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজার ১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনের বর্তমান এমপি সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম থেকে শুরু করে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ এবং দলের অনেক সিনিয়র নেতা, সাবেকও বর্তমান চেয়ারম্যান সাঈদীর পক্ষে কাজ করছেন। তাই ভোটের মাঠে এই মুহুর্তে সাঈদীর অবস্থান বেশ ভাল দেখা যাচ্ছে।
এডভোকেট লুৎফুর কবির বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে যিনিই জনগণের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোক না কেন, তাঁর মুল দায়িত্ব হবে চকরিয়ার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষকে শান্তিতে রাখতে পারদর্শী হতে হবে।
এদিকে সাধারণ ভোটারের সাথে কথা বলা জানা গেছে, আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার বেশিরভাগ সিনিয়র নেতারা এখন সাঈদীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন। তাছাড়া সাঈদী উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সাধারণ মানুষের তেমন কোন ক্ষতি করেননি। অপরদিকে জাফর আলম এমপি থাকাকালীন সর্বশেষ মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর গায়েবী জানাজার নামাজে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় চকরিয়ার সাধারণ মানুষ জাফর আলমের লোকজনের উপর অনেকটা ক্ষুব্ধ। এছাড়াও এমপি থাকাকালে আরও বেশকিছু কর্মকাণ্ডের কারণে জাফর সাধারণ মানুষের কাছে আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন।
তবে অনেকে দাবি করেন, নির্বাচনের শেষমুহুর্তে এসে পরিস্থিতি ভিন্নও হতে পারে। টাকার খেলায় সবকিছু বদলেও যেতে পারে। সবমিলিয়ে এবারের নির্বাচন জাফর আলম এবং ফজলুল করিম সাঈদীর জন্য অস্তিত্বের লড়াই। কারণ জাফর আলম যদি পরাজিত হন তাহলে তিনি রাজনীতিতে সংকটে পড়ে যাবেন। আবার যদি জিতে যান তাহলে এমপি ইলিয়াছের আমলের মতো চকরিয়া উপজেলার কোন অনুষ্ঠানে যেমন এমপিকে বাদ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানকে (জাফর) রাখা হতো সেভাবে বর্তমান এমপি সৈয়দ ইব্রাহিমকে বাদ দিয়ে নতুন করে বলয় তৈরি করবেন তিনি।
যদি নির্বাচনে ফজলুল করিম সাঈদী জিতে যায় তাহলে বর্তমান এমপি সৈয়দ ইবরাহিম বীরপ্রতীক এর বলয় ঠিক রেখে সালাহউদ্দিন সিআইপির নেতৃত্বে চকরিয়া জনপদে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একছাত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে। এখন দেখার বিষয় ২১ মে তারিখ বিষয়ের হাসি কে হাসেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬১ হাজার ১০৩ জন৷ তৎমধ্যে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭ জন পুরুষ ভোটার ও ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৬ জন নারী ভোটার ১১৪ টি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
চকো/জে







