প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, গাজায় স্থল যুদ্ধের ‘প্রস্তুতি’ নিচ্ছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনের হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ইসরায়েল ১৯ দিন ধরে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে।
গাজায় চলছে এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। এই হামলা বন্ধে ব্যাপক আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে নেতানিয়াহু এই কথা বলেন।
এর আগে রয়টার্স জানায়, তেল আবিব থেকে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে তিনি জানান, স্থল অভিযানটি কখন থেকে শুরু করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত যুদ্ধকালীন মন্ত্রীসভার ঐক্যমতের ভিত্তিতে নেয়া হবে। ভাষনে তিনি বলেন, আমরা এরইমধ্যে হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি এবং এটা শুরু মাত্র।
তিনি আরো বলেন, একই সাথে আমরা একটি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি বলতে চাই না যে সেটি কখন, কিভাবে বা কতজন থাকবে। স্থল অভিযান নিয়ে আমরা কী কী বিষয়ে হিসাব-নিকাশ করছি সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বলতে চাই না আমি, সাধারণ মানুষ এগুলো সম্পর্কে কিছু জানে না এবং এটাই হওয়া উচিত।”
তবে সিবিসি জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি স্থল অভিযান পেছানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, “৬ই অক্টোবরের আগে যেমনটা ছিল” ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সেই “স্থিতিশীল” অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মঙ্গলবার ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধের বিষয়ে তার দেয়া একটি বিবৃতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেখে “অবাক” হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইসরায়েলে ঘটিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ নিন্দা জানান তিনি।
সেখানে তিনি আরো বলেছেন, এই হামলা “বিনা কারণে” হয়নি। তার প্রকৃত বিবৃতিতে মি. গুতেরেস বলেন: “ফিলিস্তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা হামাসের হামলাকে বৈধতা দিতে পারে না।”
হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক বড়ো ধরনের হামলা চালায়। এই প্রেক্ষিতে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল এখনও শোকার্ত এবং ক্ষুব্ধ। আমরা আমাদের অস্তিত্বের জন্যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।
কিন্তু ইসরায়েলের অব্যাহত বোমা বর্ষণের প্রেক্ষিতে গাজায় তীব্র মানবিক সংকটের কারনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ অন্যান্য বিদেশী নেতৃবৃন্দ গাজায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার এবং যুদ্ধের নিয়মনীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
বাইডেন বুধবার বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুপারিশ করছেন গাজায় স্থল যুদ্ধের আগে ইসরায়েলের জিম্মিদের বের করে আনতে হবে।
তিনি বলেন, এটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমি তা চাচ্ছি না। এদিকে বাইডেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্যে আরো অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সতর্ক করে বলেছেন, বড়ো ধরনের হামলার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের ঝুঁকি আরো বাড়বে যা হবে মারাত্বক ভুল।
কিন্তু হামাসের ওপর নারকীয় গোলাবর্ষণ এবং হাজার হাজার যোদ্ধাকে হত্যার জন্যে গর্বিত নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে নির্মূলে এবং বন্দীদের ফিরিয়ে আনতে কখন স্থল যুদ্ধ শুরু করা হবে তা তার যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা এবং সামরিক বাহিনী নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, কখন কীভাবে স্থল অভিযান শুরু হবে তা আমি বলব না।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গাজায় ইসরায়েলের বোমা বর্ষণে ছয় হাজার পাঁচশ’ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি নারী ও শিশু রয়েছে। আহত হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি শিশু।







