সরকারি নির্দেশনার আলোকে সমুদ্র থেকে সবধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকলেও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী সড়কে নৌ পুলিশের নিরপেক্ষ ভুমিকার বদৌলতে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে স্থলপথে চকরিয়া উপকুলের বদরখালী হয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের হাটবাজারে যাচ্ছে সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
অভিযোগ উঠেছে, আহরণ বন্ধের শুরুতে সংশ্লিষ্ট মাছ ব্যবসায়ীদের একটি সিস্টেমের আওতায় আনতে গত মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বদরখালী থেকে চকরিয়া সদরে যাওয়ার পথে মাছ ভর্তি তিনটি পিকআপ ট্রাক জব্দ করে বদরখালী নৌ পুলিশ।
পরে কতিপয় মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টদের বনিবনা হলে এদিন গভীর রাতে মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে মাত্র ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ওই গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষর্দশী ও মাছ ব্যবসায়ী অনেকের দাবি, জব্দকৃত ওই তিনটি পিকআপ গাড়িতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। কিন্তু মাত্র ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পিকআপ গাড়ি ভর্তি মাছ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলার বদরখালী নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারিভাবে সমুদ্র থেকে সবধরনের মাছ আহরণ বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে মাছ ভর্তি তিনটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করি। পরে বিষয়টি চকরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানাই। রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটার দিকে তিনি ( মৎস্য কর্মকর্তা) বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে এসে মাছ ভর্তি জব্দকৃত তিনটি পিকআপ গাড়িকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নৌ পুলিশের ওসি বলেন, জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশে গাড়িগুলো ছেড়ে দিই। এখানে কোনধরনের অনিয়ম হয়নি। তিনটি গাড়িতে জব্দকৃত মাছের বিপরীতে জরিমানা এতো কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি একটু মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে শেয়ার করুন, তিনি ভালো বলতে পারবেন।
এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তাজিন আহমেদ ফারহান বলেন, মঙ্গলবার রাতে বদরখালী নৌ পুলিশ কতৃক মাছ ভর্তি তিনটি পিকআপ গাড়ি জব্দ করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে রাত আড়াইটার দিকে একটি গাড়িকে ৩০ হাজার টাকা ও অপর দুইটি গাড়িকে ১৫ হাজার টাকা করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করি।
তিনি বলেন, মাছ ভর্তি পিকআপ গাড়ি তিনটি হলেও এখানে সামুদ্রিক মাছ ছিল তুলনামূলক অল্প পরিমাণ। বেশিরভাগ ছিল চিংড়ি মাছ। তাই সামুদ্রিক মাছ অনুপাতে জরিমানা করা হয়েছে।
স্থানীয় সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, মঙ্গলবার রাতে সামুদ্রিক মাছ ভর্তি তিনটি পিকআপ গাড়ি জব্দ পরবর্তী জরিমানা দিয়ে গাড়িগুলো ছাড়িয়ে নেওয়ার পর এখন নৌ পুলিশের সঙ্গে বুঝাপড়া করে নতুন কৌশলে মাছ পরিবহনে নেমেছেন সংশ্লিষ্টরা। মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ও হোয়ানক ইউনিয়নের নদীরতীর লাগোয়া এলাকায় সামুদ্রিক মাছ ফিশিং বোট থেকে আনলোড করে পিকআপ গাড়িতে করে চকরিয়ার বদরখালী হয়ে স্থলপথে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মৎস্য বিভাগের লোকজন ও সাংবাদিকরা যাতে বিষয়টি জানতে না পারে সেইজন্য অতীব গোপনে রাতের আঁধারে পিকআপ গাড়িতে করে পাচার করা হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। গত দুইদিন ধরে এভাবে সামুদ্রিক মাছ ভর্তি গাড়ি বদরখালী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দিয়ে অনায়াসে পার হলেও নৌ পুলিশের সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন নীরব ভুমিকায়।
জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনার আলোকে বর্তমানে সমুদ্র থেকে জাটকা সহ সবধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকলেও কর্তব্যরত নৌ পুলিশের নীরবতায় সড়ক পথে পাচার হচ্ছে সামুদ্রিক মাছের চালান। গভীর রাতে বুধবার সামুদ্রিক মাছ ভর্তি পিকআপ গাড়ি বদরখালী সেতু দিয়ে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি অতিক্রম করে চলে যাবার ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা মৌসুমে সাগর থেকে নির্বিচারে মাছ আহরণ ও সড়ক পথে নিবিগ্নে পাচার অব্যাহত থাকায় সাগরে মাছের বংশ বিস্তারে অশনি সংকেত দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে সাগরে জাটকা ইলিশ মাছ আহরণ বন্ধ রয়েছে। সেখানে চকরিয়া বদরখালী হয়ে কেউ অন্য মাছের আড়ালে জাটকাসহ সামুদ্রিক মাছের চালান পাচার করে থাকলে খোঁজ নিয়ে এব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







