পেকুয়ায় মাত্র ১দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে মাতামহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে তীব্র বেগে পেকুয়া সদরে ঢলের পানি ঢুকে সদর ইউনিয়ন আবারও পানিতে ডুবে যাচ্ছে।
রোববার দুপুরে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহের নামায় রাবার ড্যামের পূর্ব পাশে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা তার সামনেই বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকার কথা শুনেই তিনি সেখানে গিয়েছিল।
এলাকাবাসি জানায়; গত ১দিনের টানা বর্ষণে পেকুয়া উপজেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়ন, শিলখালী ও টৈটং ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের ভাঙন দিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে পাহাড়ী ঢলের পানি ঢুকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের আমনের বীজ তলা আবারও ঢলের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পুরো এলাকা আবারও বন্যা কবলিত হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
গত ৭ আগষ্ট পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহের নামার একই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে মাতামুহুরী নদী থেকে ঢলের পানি ঢুকে ভয়াবহ বন্যা কবলিত হয়ে পেকুয়া সদরের ৫০ হাজার মানুষ ১০/১২দিন পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। ওই বন্যায় পেকুয়া সদরের সব কৃষকের আমনের বীজ তলা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন কৃষকরা আবার বীজতলা তৈরী করে আমনের চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখছিল। কেউ কেউ বাইরের এলাকা থেকে চড়া দামে চারা কিনে নিয়ে রোয়ার কাজ চালিয়ে আসছে। এ অবস্থায় আবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের কৃষকের বীজতলা ও আমানের রোয়া পানির নিচে তলিয়ে গেছ।
এ ব্যপারে পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ সভাপতি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জানান; সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলার কারণে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন বারে বারে বন্যা কবলিত হচ্ছে। মানুষের অপুরনীয় ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বেড়িবাঁধের ভাঙন এলাকায় গত ৭/৮ বছরের মধ্যে নতুন করে এক মুঠো মাটিও দেওয়া হয়নি। বন্যা হলে সাধারণ কৃষকের ক্ষতি হয়ে দুঃথ বাড়ে, জনপ্রতিনিধিরা তাদের দুঃখকে কাজে লাগায়, তারা সরকারী রিলিপ বিতরণ করে নেতা গিরি দেখাতে পারে। অন্যান্য সুবিধাভোগীদের অবস্থাও একই।
এ জন্য তারা বেড়িবাঁধের খবর নেন না। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা জানান; বৃষ্টি কমে গেলে নদীতে নেমে আসা ঢলের পানি কমে যাবে। তখনই ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধের ভাঙনটি পুনঃনির্মাণ করার সম্ভব হবে।







