দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত।এটিই বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সৈকত। এ সৈকতের আশপাশ বন-উপবন,খাল-নদী,ঝিরি-ঝর্ণা,বন্যপ্রাণি-পাখপাখালি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র ভরপুর এই জেলা। দেখার আছে আরও কত কিছু! এসব নৈসর্গিক সৌদর্যকে ঘিরে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনায় এগিয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার।
শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকতর অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ এখন দৃশ্যমান। এ সৈকতের তীর ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
এ সড়ক দিয়ে যেতে যেতে পাহাড়ে বন্যপ্রাণীর-পাখপাখালীর হাঁকডাক, সমুদ্রের জলরাশিতে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার,ঝাউবন ও সামুদ্রিক প্রাণির বিচরণ দেশী- বিদেশী পর্যটকদের বিমোহিত করে।
চলতি পথে আরও আর্কষণ বাড়ায় পাহাড় সাগরের দরিয়ানগর, হিমছড়ির জাতীয় উদ্যান,ছড়া ও ঝর্ণা। এরপর প্যাচারদ্বীপ ও ইনানীর পাথুরে সৈকত।
এ ছাড়া দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনও কক্সবাজার। রয়েছে একমাত্র শৈলদ্বীপ মহেশখালী। আছে দেশের বৃহত্তর রামু রাবার বাগান, দেশের প্রথম চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, দেশের একমাত্র কুমির প্রজননকেন্দ্র, লবণমাঠ, চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের ঘের, দেশের বৃহত্তম রামুর বুদ্ধমূর্তি ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির পীঠস্থান। দেশের ১৯টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে তিনটি কক্সবাজারেই অবস্থিত। সব মিলিয়ে দেশের অন্য কোথাও নেই এমন সব সম্পদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দয শুধুই কক্সবাজারেই আছে।
ইতোমধ্যে টেকনাফের সাবরাং ও মহেশখালীর সোনাদিয়ায় ইকো টুরিজম পার্ক তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।এখানে বিদেশী পর্যটকদের জন্য এক্সক্লুসিভ টুরিস্টজোন গড়ে তোলা হচ্ছে।
পর্যটনকে ঘিরে জল,স্থল ও আকাশ পথে কক্সবাজারের বৈপ্লবিক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, আগামী বছরের ডিসেম্বরে কক্সবাজারে পর্যটকেরা রেলযোগে ভ্রমণে আসতে পারবে। এ জন্য টুরিস্ট রেল চালু হবে। রেল যোগাযোগের মাধ্যমে এখানে পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ হবে।
গত ২৯ আগস্ট কক্সবাজার আন্তজাতিক বিমান বন্দরের সমুদ্রে রানওয়ে সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ ও পদক্ষেপের দ্রুত বাস্তবায়নের কথা জানান।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কক্সবাজারে আন্তজাতিক বিমানবন্দরসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে কক্সবাজারের পর্যটনের চেহারা পাল্টে যাবে।
এ ছাড়া বেসরকারি উদ্যোগে সাগর পথে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চালু করা হয়েছে।
কক্সবাজার থেকে খুলনা সুন্দরবনেও জাহাজ চলাচলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সড়ক-মহাসড়কেরও উন্নয়ন দৃশ্যমান। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণ, মিরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ২৬৮ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, আনোয়ারা থেকে চকরিয়া হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।এছাড়া শহরের সঙ্গে যোগাযোগ নির্বিঘ্ন করতে লিংক রোড় থেকে শহরের হলিডে মোড় ও শহরের প্রধান সড়ক-উপ সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
কক্সবাজার সদর ও রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল জানান, কক্সবাজার পর্যটনের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাধিক অগ্রাধিকার প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্বের কাছে কক্সবাজার অন্য উচ্চতায় স্থান করে নিতে পারবে।#







