সাম্প্রতিক বন্যায় (৭ ও ৮ আগস্ট) চকরিয়া পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

আগস্টের ৩ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে মাতামুহুরি নদীতে বান ডাকে। আর এই বানের পানির তাণ্ডব চকরিয়ায় দীর্ঘ ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে। এতে করে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় জানমালের। চকরিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়।

এই বন্যায় গোটা পশ্চিম বড় ভেওলা কার্যত প্রায় সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা জানিয়েছেন, এই বন্যায় মিটা পানি ও লবণ পানির মৎস্য প্রকল্পগুলো শতকরা ৯০ ভাগ ডুবে বন্যার পানির সাথে একাকার হয়ে যায়। এতে করে শুধু এই খাতেই ক্ষতির পরিমাণ ৩০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

গত তিনবছর টানা বন্যা না হওয়ায় এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ মিটাপানির মাছ চাষের দিকে ঝুঁকে। কেবি জালালুদ্দিন সড়কের উত্তর পাশ জুড়েই তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিটা পানির মাছ চাষ প্রকল্প। এইবারের বন্যায় এসব প্রকল্প সম্পূর্ণ ডুবে যাওয়ায় সব মাছ প্রকল্প বেরিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এই এলাকার নূর মোহাম্মদের ৭ একর, দেলোয়ার হোসেনের ৩ একর, মোশাররফের ৪ একর, মৌলভী শহীদদের ৬ একর, শুক্কুর মেম্বারের ১৩ একর, নাসিরের ৩ একর, মনির উদ্দিনের ২ একর সহ আরো অনেক মিটা পানির মৎস্য চাষীর প্রকল্প ডুবে যাওয়ায় সমুদয় মাছ প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যায়।
অপর দিকে এই ইউনিয়নে অবস্থিত নোনা পানির চিংড়ি চাষ প্রকল্পও সম্পূর্ণ ডুবে সাগরের পানির সাথে একাকার হয়ে যায়।
সরেজমিনে জানা গেছে, গেল বন্যায় জামাল মেম্বারের মালিকানাধীন ৪০ একর, ভুট্টুর মালিকানাধীন ২০ একর, আবুল কাশেমের ৮০ একর, মোরশেদের ৪০ একর, নাজেম সওদাগরের ৮০ একর, মাহাবুর মালিকানাধীন ৮০ একর চিংড়ি প্রকল্প সহ আরো অনেকের চিংড়ি প্রকল্প সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এই বন্যায়।
চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা আরো জানান, বন্যার পানির তোড়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ তচনচ হয়ে গেছে। এই খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি টাকার অধিক হবে।
শনিবার সরেজমিনে পশ্চিম বড় ভেওলা ঘুরে দেখা গেছে, বন্যার পানির তোড়ে কেবি জালালুদ্দিন সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গেছে। দেখা গেছে, ইলিশিয়া হতে টেকশিরা রাস্তা, ইলিশিয়া স্বপন মিয়ার বাড়ি হতে মৌলভী হাবিবুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, দরবেশকাটা স্কুল সংলগ্ন রাস্তা, দরবেশকাটা তিনমাথা থেকে গুদারপাড়া স্লুইসগেট পর্যন্ত রাস্তা বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে।
এছাড়া এই ইউনিয়নে কৃষকের রোপা ধান উপড়ে গেছে। বিভিন্ন বাঁধের কারণে পানি দ্রুত নিচে নামতে না পারায় বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এই জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সহসা মাঠে ফিরতে পারছেনা।
গভীর রাতে অকস্মাৎ পানি এসে গ্রামীণ ক্ষুদে দোকানদারদের দোকানে ঢুকে গেলে ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের মালামাল সরানোর কোনো সুযোগই পায়নি। ফলে এসব দোকানীরা পূঁজি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।







