কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ৭ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের কারনে সৃষ্ট এ বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকেছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নদীর পানিতে তলিয়ে গিয়ে ও ঘরের দেয়াল চাপা পড়ে দুই শিশুসহ তিন জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সোমবার সন্ধ্যায় মাতামুহুরী নদীর পানি চিরিংগা পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় ৩ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে ভেসে আসা লাকড়ি ধরতে গিয়ে এক যুবক ঢলের প্রবল স্রোতের পানিতে ভেসে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর লক্ষ্যারচর হাজিপাড়া পয়েন্টে লাকড়ি ধরতে নদীতে ঝাঁপ দেয় শাহ আলম। এসময় লাকড়ি ধরে কূলে ফেরার সময় পানির তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যায়। শাহ আলম (৩৫) ওই এলাকার জাকের হোসাইনের ছেলে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার হদিস মিলেনি।
অপরদিকে বরইতলী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পুর্ব ভিলিজার পাড়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে অতিবর্ষণের কারনে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ওই পাড়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এলাকার চেয়ারম্যান- মেম্বাররা বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেননা। তবে দেয়াল ধসে শিশু মৃত্যুর খবর সঠিক বলে এলাকার চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলার বরইতলী, কৈয়ারবিল, পুর্ব বড় ভেওলা,পশ্চিম বড় ভেওলা, সাহারবিল, কোনাখালী, চিরিংগা, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, বদরখালী, হারবাং, ঢেমুশিয়া, বিএমচরসহ ১৮ টি ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকার শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। বদরখালী ও পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া এলাকায় স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ চাষ করায় জলাবদ্ধতায় শতকরা ৮০ ভাগ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে চকরিয়ার হারবাং, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, কৈয়ারবিল ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পাহাড়ের ঢালে অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের তরফে মাইকিং করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা মো. জামিল মোরশেদ জানান- ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে কোনাখালীর কন্যারকুম এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বানের পানি দেদারছে লোকালয়ে ঢুকছে ।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অনেক ইউনিয়নে লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষগুলো যাতে খাবারের সংকটে না পড়েন সেজন্য জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীকে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







