শুক্রবার রাত থেকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় চলছে টানা বর্ষণ। এর আগে সপ্তাহ ধরে থেমে থেমে ভারী বর্ষণ। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

লামা-আলীকদম উপজেলার নীচু এলাকাগুলো ইতিমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সড়কে নীচু অংশ ডুবে যাওয়ায় দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী লামা শহরের কয়েকটি নীচু এলাকা গত রাত থেকে প্লাবিত।
লামা পৌর শহরের ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে, নয়াপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, বাজার ক্যায়াংপাড়া ও হাসপাতালপাড়ায় নীচু এলাকার কিছু বাড়ি ঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি যেন আকাশ ভেঙ্গে জমিনে পতিত হচ্ছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে মাতামুহুরি নদীর পানিও বাড়ছে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তথ্য অফিসের মাইকে সতর্কবার্তা/ প্রচারনা অব্যাহত রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীসহ নীচু এলাকায় জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাব্য পরিবারগুলো অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে। তাদেরকে জরুরী ত্রাণ সহায়তা শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে।
রোববার (০৬/০৮/২০২৩ ) দুপুর একটায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মোস্তফা জাবেদ কায়সার মুঠো ফোনে জানান, “ইতিমধ্যে লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত দু’দিন ধরে আশ্রিত পরিবারগুলোকে জরুরী ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার, তৈরি করা নাস্তা”। আশ্রিতরা জানান, মেডিকেল টিম ও জরুরী ওষুধ প্রয়োজন সেখানে। অপরদিকে নীচু বাণিজ্যিক এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা মালামাল নিয়ে নিরাপদে সরতে শুরু করেছে।
প্রবীণ লোকদের মতে, ‘বর্ষায় সাধারণত জুন-জুলাই মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়, সে সাথে পাহাড়ি ঢলে নীচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়’। কিন্তু চলতি বছর আগস্টে এমন বৃষ্টি ও প্লাবনের বিষয়ে অপ্রস্তুত সবাই।
গত ২০২২ সালের এই সময়টা মাতামুহুরি নদীর তলানিতে ছিলো পানি। এ বছর সেই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত।
পাহাড়ি ঢলে পানির কুলকুল শব্দ শঙ্কিত তীরবর্তী বাসিন্দারা। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আরো ৪/৫ দিন এই অবস্থায় থাকবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লামা-আলীকদম উপজেলায় পাহাড় ধ্বসে বিপর্যয়ের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।







