কক্সবাজারের রামুতে সন্ত্রাসী হামলায় একই পরিবারের দুই সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার, ৬ জুন রাত ১১ টায় রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হাইটুপি এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আহতরা হলেন- মৃত রনধীর বড়–য়ার ছেলে নিলাশ বড়–য়া (৪৫) ও সুমন বড়–য়ার মেয়ে কলেজ ছাত্রী পারিশা বড়–য়া (১৮)। আহতরা দুজনই মামা-ভাগনি। এরমধ্যে নিলাশ বড়–য়াকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
আহত নিলাশ বড়–য়ার স্ত্রী রুমা বড়–য়া জানান- মনিন্দ্র বড়–য়ার ছেলে একাধিক মামলার আসামী বিদ্যুৎ বড়–য়া আপ্পি, মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী সাবেক ইউপি সদস্য সন্তোষ বড়–য়া পুতু ও আশীষ বড়–য়া, বিদ্যুৎ বড়–য়া আপ্পির ছেলে জয় বড়–য়া ও আশীষ বড়–য়ার ছেলে অজয় বড়–য়ার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কিরিচ, দা, ছুরি, লাটি-সোটা নিয়ে আকষ্মিকভাবে তাদের বাড়িতে হামলা শুরু করে। হামলাকারিরা নিলাশ বড়–য়াকে মাথায় দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।
রক্তক্ষরণ চলাকালে অন্যান্য হামলাকারিরা নিলাশ বড়–য়া ছুরিকাঘাত ও লাটি-সোটা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করতে থাকে। এসময় নিলাশ বড়–য়ার ভাগনি পারিশা বড়–য়া আতংকিত হয়ে মামাকে বাঁচাতে যাওয়ার সাহস না পেয়ে হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ শুরু করে। এসময় সন্তোষ বড়–য়াসহ আরও কয়েকজন হামলাকারি ওই মেয়েটিকে মারধর করে হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় এবং ভিডিও ধারণ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পারিশা’র পেঠে লাথি এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে কিলঘুষি দেয়।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থলে যান রামু থানার উপ-পরিদর্শক সুনয়ন বড়–য়া। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন জানিয়েছেন- মারধরের ঘটনা সত্য।
রক্তাক্ত অবস্থায় নিলাশ বড়–য়াকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।
জানা গেছে- হামলাকারি বিদ্যুৎ বড়–য়া আপ্পির বিরুদ্ধে মাদকসহ প্রায় অর্ধডজন মামলা রয়েছে। কয়েকমাস আগে তিনি জেল থেকে জামিনে আসেন। এছাড়াও অপর হামলাকারি সন্তোষ বড়–য়া তার পিতা সহ মাদক মামলায় সাজা ভোগ করে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান।
আহত পারিশা বড়–য়ার মা আলোমিতা বড়–য়া জানান- বর্তমানে তার ভাই নিলাশ বড়–য়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে। এছাড়া হামলার শিকার তার মেয়ের রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
ঘটনার পরই পুলিশ, স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তাদেও উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নিলাশ বড়–য়াকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান- হামলাকারিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ি। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অত্যাচার-নির্যাতনে পুরো গ্রামবাসী অতিষ্ঠ। এ ঘটনার পরদিন (বুধবার) হামলাকারিরা ফের প্রকাশ্যে ছুরি নিয়ে তাদের বাড়ির পাশে ঘুরাঘুরি করে আতংক সৃষ্টি করে। এ কারণে বর্তমানে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সন্তোষ বড়–য়া জানিয়েছেন- তার ভাই বিদ্যুৎ বড়–য়া আপ্পি এ ঘটনায় জড়িত। তার ভাই অন্যায় করেছে। তবে তিনি হামলায় জড়িত ছিলেননা। মারধর চলাকালে তিনি সমাধানের জন্য গিয়েছিলেন।
এছাড়া মারধরের দৃশ্য ভিডিও করায় আরিশা বড়–য়ার মোবাইল কেড়ে নিয়েছিলেন। মোবাইলটি তিনি ফেরত দেবেন।







